জামালপুর প্রতিনিধি ॥
জামালপুরে বিআরএস রেকর্ড সংশোধন করে দেওয়ার নামে স্ট্যাম্পে জমির ওয়ারিশদের স্বাক্ষর নিয়ে জমি বেদখল দিয়েছে অভিযুক্ত ব্যক্তি। ওই জমি নিজের দাবি করে অন্যত্র বিক্রির জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তি দুই জনের কাছ থেকে একত্রিশ লাখ টাকা বায়নাও নিয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির হুমকিতে ভীত হয়ে ভুক্তভোগী পরিবার তিনদিন ধরে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র থাকছেন। মঙ্গলবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরের শহীদ হারুন সড়কে একটি মিডিয়া হাউজে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় জামালপুর সদর থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের তামান্না আক্তার হাসি অভিযোগ করে বলেন, আমি শহরের মাইনপুর এলাকার বাসিন্দা মৃত আতিকুল্লা সিদ্দিকের স্ত্রী। আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর তাঁর পৈত্রিক জমি (মৌজা-সিংহজানী মধ্যে সিএস খং নং-১২৮, সিএস দাগ নং-৫৯১, আরওআর দাগ নং- ৪৩০, বিআরএস দাগ নং-৬১১৬ ও ৬১১৭, জমির পরিমান ১ একর ৯ শতাংশ) আমি, আমার ছেলেমেয়েসহ স্বামীর ভাইবোনেরা ওয়ারিশসূত্রে অংশীদার হই। সম্প্রতি বিআরএস রেকর্ডে এই জমি ভুলবশত অন্যজনের নামে রেকর্ড হয়। এ ঘটনা আমি আমার স্বামীর পূর্ব পরিচিত শহরের ফুলবাড়িয়া মুন্সিপাড়ার শেখ মো. শওকত আলীর ছেলে সিব্বির আহম্মেদ রাসেল (৪১)কে জানাই। তিনি বিআরএস রেকর্ড সংশোধনের মামলা ও ১নং খাস খতিয়ানের মামলা পরিচালনা করবে বলে ৩’শ টাকার নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে আমার ও আমার স্বামীর ওয়ারিশদের স্বাক্ষর নেন। তিনি সেই স্বাক্ষর পুঁজি করে প্রতারণামূলকভাবে একটি আন-রেজিষ্ট্রার ভূয়া দলিলের মাধ্যমে জমিটি তার দাবি করে আমাদের কাছে টাকা চান।

তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে আমরা জানিতে পারি যে, আসামি আমাদের ওই জমিটি অন্যত্র বিক্রির জন্য ২ জনের কাছ থেকে একত্রিশ লাখ টাকা বায়না স্বরুপ হাতিয়ে নেন এবং আমাদের জমিতে সাইনবোর্ড দিয়ে বিক্রেতারদের জমি বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সংবাদ পেয়ে ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১১ টায় আমি ও সাক্ষীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে রাসেল ও তার সঙ্গীরা আমাদের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজসহ মারতে আসেন। আশেপাশের লোকজন এসে আমাদেরকে রক্ষা করেন। তারা আমাদেরকে মারতে না পেরে এই মর্মে হুমকি প্রদান করে যে, আমি বা আমাদের কেউ যদি এই জমিতে আসার চেষ্টা করি এবং আন-রেজিষ্ট্রার দলিলে দাবিকৃত করা টাকা না দেয় তাহলে খুন করে লাশ গুম করে ফেলবে। আমরা ভয়ে তিনদিন ধরে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র থাকছি।

তিনি এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ভূমিদস্যু রাসেলকে গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের গোলাম রব্বানী ঠান্ডু, শামসুন্নাহার পলিসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সিব্বির আহম্মেদ রাসেল বলেন, অভিযোগটি সঠিক নয়। আমার বিরুদ্ধে একটি কুচক্রী মহলে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। তারাই মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে এই সংবাদ সম্মেলন করিয়েছে।

এ ঘটনায় জামালপুর সদর থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) কাজী শাহনেওয়াজ জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো পড়ুন