ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ

ভূরুঙ্গামারীতে জনসাধারনের প্রায় একশত বছরের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সহ মোট দুই শতাধিক মানুষের দূর্ভোগ চরমে উঠেছে।

এ ব্যাপারে ভূক্তভোগীরা জেলা প্রশাসক. ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যান সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেও কোন সমাধান না পাওয়ায় বন্ধী জীবনে হতাশ হয়ে পড়েছেন তারা।

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার আন্ধারীঝার ইউনিয়নের খামার আন্ধারীঝার গ্রামের অভিযুক্ত মৃত বালিয়া শেখের পুত্র খৈমুদ্দিন ও ছকিয়া শেখের স্ত্রী জামেনা বেগম প্রথমে গরু বেধে রাখার জন্য একটি এক চালা টিনের ঘর উঠিয়ে এ রাস্তা বন্ধ করে রেখেছে। আন্ধারীঝার বাজার থেকে মোগল কাটা যাওয়ার রাস্তায় সাবেক ইউপি সদস্য শাহাদত মাস্টারের বাড়ির সন্নিকটে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সহ প্রায় ত্রিশটি পরিবারের বসবাস প্রায় একশত বছর পূর্ব থেকে এ গ্রামে। কিন্তু খৈমুদ্দিন গং এর সাথে একটি পরিবারের ঝগড়া মনমালিন্য হওয়ায় রাতের অন্ধকারে এ রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারপর বাকি ২৯ টি ঘর তথা পরিবার সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান,মেম্বার সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদ্বয়কে বিষয়টি অবগত করলে তারা একাধিকবার বিভিন্ন ভাবে মিমাংসার চেষ্টা করলেও বিবাদীগন কাউকে তোয়াক্কা করছেন না।

ভূক্তভোগী আশাদুল ইসলাম ও মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলীর পুত্র নুর মোহাম্মদ বলেন, একটা মানুষের জন্য আমরা দুইশ মানুষ গৃহ বন্ধী হয়ে আছি। কনোমতে পায়ে হাটা পথ দিয়ে বের হচ্ছি। কিন্তু কোন প্রকার বড় ভারী মালামাল বের করা কিংবা বাসা বাড়িতে ঢুকাতে পারছি না।

ইউ’পি চেয়ারম্যান জাবেদ আলী মন্ডল জানান, রাস্তাটি পূর্বের ন্যায় খুলে দেওয়ার জন্য বলেছিলাম কিন্তু তারা আমার কথা শোনেননি।

এ ব্যাপারে ইউএনও দীপক কুমার দেব শর্মার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি এসিল্যান্ড ও তহশিলদালকে সরেজমিন তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাহমিদুল ইসলাম বলেন, আমি সরেজমিনে গিয়েছিলাম ওই রাস্তা দিয়ে বহু বছর যাবৎ মানুষ চলাচল করে আসছেন, রাস্তাটি রেকর্ড না পাওয়ায় ও ব্যক্তি মালিকানা শর্তে সামাজিকভাবে বিভিন্ন পন্থায় মিমাংসার চেষ্টা চলমান আছে । প্রয়োজন সাপেক্ষে বাদীদের আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এটির একটি প্রতিবেদন উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *