ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি :
ভূরুঙ্গামারী উপজেলার গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের করা অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের দাবি অভিযোগটি মিথ্যা, বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক । অভিযুক্ত শিক্ষকের নিকট লিখিত জবাব নেয়া হলেও তদন্ত কর্মকর্তা নিরপেক্ষতার বদলে পক্ষপাতমূলক তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষক ও সচেতন মহলে ক্ষোভ ও চাপা উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
জানাগেছে,ঐ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোছাঃ রোকসানা আকতার এবং তার স্বামী জয়মনিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ মজিবর রহমান ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতন হলেও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিভিন্ন কৌশলে কব্জা করে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে আসছেন। একইভাবে গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ মোশাররফ হোসেনসহ কয়েকজন সহকর্মীকে দূগর্ম এলাকায় বদলীর ভয় দেখিয়ে মোছাঃ জেসমিন আরা বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন। অভিযোগে নানা অনিয়ম ও অসদাচরণের কথা উল্লেখ্য করা হলেও বাস্তবে তার প্রমান পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মোছাঃ জেসমিন আরা বেগম বলেন,“আমাকে সামাজিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও মানসিকভাবে হেয়পতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। আমার সহকর্মী রোকসানা আক্তার, তার স্বামী মজিবর রহমান এবং প্রধান শিক্ষক মোশাররফ হোসেনসহ কয়েকজনকে বদলির ভয় দেখিয়ে আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।”তিনি আরও অভিযোগ করেন,“তদন্ত প্রতিবেদনে আমার দাখিল করা লিখিত জবাব পত্র সংযুক্ত করা হয়নি। বরং তদন্ত কর্মকর্তা মোবাশ্বের আলী ফ্যাসিস্ট শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে একপক্ষীয় প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।”আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ পত্র এবং তদন্তের নোটিশ প্রদান না করে আকস্মিকভাবে ১৮ আগস্ট তদন্তে আসায় আমি তাৎক্ষনিকভাবে মানসিক বিপর্যস্ত হয়ে পরলেও ঘটনার সত্যতা প্রমান করি। পরে আমি ২৪ আগস্ট উক্ত সহাকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোবাশে^র আলীর নির্দেশক্রমে আমার লিখিত জবাবপত্র দাখিল করি কিন্তু তিনি এক তরফাভাবে আমাকে হয়রানী করার নিমিত্তে আমার বিরুদ্ধে মনগড়া প্রতিবেদন দাখিল করেছে। আমি এই মনগড়া প্রতিবেদন প্রত্যাহার করার দাবী করছি।
অন্যদিকে অভিযোগকারীর পক্ষ নিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোশাররফ হোসেনের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষকের আচরণ দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়ে অস্বস্তি ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছে। এজন্য বাধ্য হয়ে অভিযোগ দাখিল করা হয়। তাদের মতে, তদন্ত প্রতিবেদনে সঠিক তথ্যই উঠে এসেছে। তদন্ত কর্মকর্তা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোবাশে^র আলীর নিকট জানতে চাইলে তিনি অভিযুক্তের লিখিত জবার পত্র প্রাপ্তির কথা স্বীকার করেন। তদন্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে লিখিত জবাবপত্র সংযুক্ত কেন করা হয়নি এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান,প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে কিন্তু অভিযুক্তের লিখিত জবাবপত্র সংযোজন করা হয়নি,শুধু তাই নয় সহকারী শিক্ষক রোকসানা আক্তারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোবাশে^র আলী একতরফা ভাবে ১৮ আগস্ট তদন্তের নির্দেশ পত্র অভিযোগকারী ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে প্রদান করলেও অভিযুক্ত জেসমিন আরা বেগমকে কোন নোটিশ প্রদান করেন নাই। মোবাশে^র আলী অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষককে কেন নোটিশ প্রদান করেন নাই জানতে চাইলে তিনি জানান,প্রধান শিক্ষককে জানিয়েছি মর্মে তাকে জানানো হয়নি। উল্লেখ্য বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোশাররফ হোসেন তিনি নিজেও রোকসানা আকতারের পক্ষ নিয়ে অভিযোগ পত্রে অভিযোগের ঘটনা সত্য বলে সুপারিশ করেছেন । সহকারী শিক্ষক জেসমিন আরা বেগমের স্বামী মোঃ আজিজুল হক অভিযোগ করে বলেন ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের শাসন আমলে ফ্যাসিস্ট শিক্ষক মজিবর রহমান ও তার স্ত্রী রোকসানা আক্তার ফ্যাসিস্ট ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের জিম্মি করে বদলী পদোন্নতি বাণিজ্য করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের পতন ঘটলেও তাদের ক্ষমতার দাপট এখনও কমে নাই। আমি সুষ্ঠ তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় আইনে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি। ফ্যাসিস্ট শিক্ষক মজিবর রহমান ও রোকসানা আকতারের ক্ষমতার দাপট খর্ব করতে তাদের বিরুদ্ধে আচরন বিধি লংঘনের দায়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট গত ১৪/০৯/২০২৫ ইং তারিখে আহবায়ক ও সদস্য সচিব কর্তৃক স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন। বিদ্যালয়ের অভিভাবকদের দাবী অভিযোগ-জবাব উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই না করে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন দিলে তা শিক্ষাঙ্গনে বিভাজন ও অস্থিরতা সৃষ্টি করবে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। মিথ্যা অভিযোগে শিক্ষককে হয়রানী ও তদন্ত কর্মকর্তার এক তরফা প্রতিবেদন দাখিল করায় বিদ্যালয়ের অভিভাবকসহ এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আখতারুল ইসলাম জানান, দাখিলকৃত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হয়েছে এবং প্রতিবেদন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে।অভিযুক্তের লিখিত জবাব পত্র কেন সংযুক্ত করা হয়নি জানতে চাইলে তিনি জানান,এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোবাশে^র আলীকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে,লিখিত জবাবপত্র তদন্ত প্রতিবেদনের সাথে পাঠানোর কথা তবে ঐ সময়ে আমি ছুটিতে থাকায় সেটা পাঠানো হয়েছে কিনা আমার সঠিক জানা নেই।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শ্রী স্বপন কুমার রায় চৌধুরী জানান,তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পুনরায় সেটি সংশোধন করে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছিল কিন্তু সেখানেও অভিযুক্ত শিক্ষকের লিখিত জবাবপত্র সংযুক্ত করেনি। লিখিত জবাব পত্র নেয়ার পর কেন সংযুক্ত করা হয়নি এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে শো-কোজ করা হবে।
