চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে অষ্টমীর স্নান সম্পন্ন প্রায় ৫লাখ পুন্যার্থীর ঢল

নাজমুল হুদা পারভেজঁ(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
শনিবার কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী অষ্টমীর স্নান ও মেলা বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবছর চৈত্র মাসের শুক্ল পক্ষের অষ্টমী তিথিতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে এই ঐতিহ্যবাহী স্নান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। হিন্দু ধর্ম মতে এটি একটি পূন্য কর্ম এবংস্নানের স্থানটি তীর্থ স্থান। এবারে পঞ্জিকা হিসাব অনুযায়ী শুক্রবার রাত ৯টা ১১মি.১৬ সে. থেকে শুরু হয়ে শনিবার রাত ১১টা ৮মি.৭ সে.পর্যন্ত ছিল স্নানের সময়। তবে স্নানের উত্তম সময় (লগ্ন) ছিল শনিবার সকাল ৭টা ৩৫ মিনিট ৩ সেকেন্ড থেকে ১০টা ৩মিঃ ৫১ সেকেন্ড পর্যন্ত। তবে দুর-দুরান্ত থেকে আসা পূন্যার্থীরা সারাদিনব্যাপী নিজেদের সুবিধামত সময়ে স্নান কার্য সম্পন্ন করেন।
‘হে মহা ভাগ ব্রহ্মপুত্র, হে লৌহিত্য, তুমি আমার পাপ হরণ করো’ মন্ত্র উচ্চারণ করে ব্রহ্মার নিকট কৃপা চেয়ে স্নান উৎসবে সম্পন্ন করেন পূণ্যার্থীরা। প্রায় ৫লাখ পূণ্যার্থীর পদচারনায় মূখরিত হয়ে উঠেছিল চিলমারীর ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীরের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা। স্নান উৎসবকে ঘিরে কয়েকদিন আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে পূণ্যার্থীর চিলমারীতে আত্নীয় স্বজনের বাড়িতে এসেছিল। গতকাল সারাদিন ও সারা রাত কুড়িগ্রাম জেলার পূর্ণার্থীরাসহ দূরদূরান্তের পূর্ণার্থীরা কেউ পায়ে হেঁটে, কেউঁ মটর সাইকেলে ও সিএনজিতে করে আসে চিলমারী বন্দর ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে। দূরের অনেক পূর্ণার্থী বাস বা মিনি বাস ভাড়া করে গতকাল থেকে আসা শুরু করে। রংপুর থেকে স্নান উৎসবে আসা পূন্যার্থী শিউলী রানী জানান, করোনা পরিস্থিতিতে গত ২বৎসর স্নান করতে পারিনি। এবারে অনেক কষ্ট করে স্নান করতে এসেছি, পরিবেশ ভাল থাকায় স্নান করে তৃপ্তি পেয়েছি।
অষ্টমীস্নান উৎসব কমিটির ভাষ্যমতে প্রতি বছরের মত এবারও ভারত, নেপাল ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত ৫লাখ পূণ্যার্থী যোগ দিয়েছে স্নান উৎসবে। তবে স্নান উৎসব যদি বুধবার অনুষ্ঠিত হয় তখন ভারত ও নেপাল থেকে বেশি সংখ্যক হিন্দু ধর্মাবলম্বী আসেন বলে কথিত রয়েছে।
এদিকে ঐতিহ্যবাহী এই স্নান মেলার জন্য নির্দিষ্ট ঘাট না থাকায় উপজেলার রাজারভিটা এলাকায় উন্মুক্ত স্নানঘাটে পূণ্যার্থীরা স্নানপর্ব সম্পন্ন করেছেন। স্নান উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দুর-দুরান্ত থেকে আসা পূন্যার্থীদের নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও ভিডিপির পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন করাসহ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশী পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
স্নান উৎসব কমিটির আহবায়ক বিষু চন্দ্র বর্মন বলেন, দেশ-বিদেশের প্রায় ৫লাখ পূণ্যার্থী স্নান উৎসবে যোগ দেয়। তিনি আরো জানান, এবারে পরিবেশ অনুকূলে থাকায় আগের তুলনায় পূন্যার্থীর সংখ্যা বেশী হয়েছিল। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.