শতভাগ বোনাস প্রদান সহ শিক্ষা জাতীয়করনের দাবীতে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে প্রধান শিক্ষক পরিষদ ময়মনসিংহ জেলা শাখার স্মারকলিপি প্রদান

মো: নাজমুল হুদা মানিক ॥
মাধ্যমিক শিক্ষাস্তরে বিদ্যমান পাঁটি বৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান পরিষদ ময়মনসিংহ জেলা শাখার উদ্যোগে ১৫ মার্চ সকাল সাড়ে ১১টায় ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান পরিষদ ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি মো: সামছুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক খালিদ হিল্লোল স্মাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, বাংলাদেশের বেসরকারী মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানবৃন্দ বর্তমান সরকারের গুনগত শিক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নের সংকল্প নিয়ে গঠন করেছে প্রতিষ্ঠান প্রদানদের পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান পরিষদ। এ সংগঠন স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধোর চেতনায় বিশ^াসী একটি অসাম্প্রদায়িক, অরাজনৈতিক পেশাজীবী সংগঠন। মাধ্যমিক স্তরের প্রতিষ্ঠান প্রদানদের মধ্যে আন্ত:সম্পর্ক বৃদ্ধি করে শিক্ষার গুনগত মান উন্নয়নের জন্য শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। স্মারকলিপিতে বলা হয়, সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীরা শতভাগ উৎসব ভাতা পাচ্ছেন, অপরদিকে বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারীরা পাচ্ছেন ২৫% উৎসব ভাতা। সরকারী স্কুলের প্রতিষ্ঠান প্রধানগন পাচ্ছেন ৬ষ্ঠ গ্রেড, অপরদিকে বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানগন পাচ্ছেন ৭ম গ্রেড। অথচ ১৯৯০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বরের আগে সরকারী ও বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বেতন স্কেল ৭ম গ্রেডে ছিল। ২০২১ খ্রি: এম.পি.ও নীতিমালা অনুযায়ী বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক কর্মচারী চাকুরী জীবনে ২টি উচ্চতর গ্রেড পেলেও বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহপ্রধানদের চাকুরীর ক্ষেত্রে ২টি উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির সুস্পষ্ট ঘোষনা নেই। বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের বদলী ব্যবস্থা নেই। বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারী ঐচ্ছিক বদলী এবং সকল শিক্ষকদের ন্যায় প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহপ্রধানদের নিয়োগ এনটিআরসিএইচ এর মাধ্যমে করার প্রদান করার প্রস্তাব পেশ করেন। জাতির পিতা যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি দেশে সীমাহীন অর্থনৈতিক সমস্যার মধ্যেও প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করন করে গেছেন। তারপরে প্রায় অর্ধশত বছর অতিক্রান্ত হল, দেশের সর্বক্ষেত্রে উন্নয়ন হয়েছে কিছু প্রাথমিক পরবর্তী মাধ্যমিক শিক্ষার ভাগ্যের পরিবর্তন হল না। তাই মুজিববর্ষকে স্মারনীয় করে রাখার জন্য মহান স্বাধীনতার সুবর্নজয়ন্তীতে মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করন ঘোষনা চাই। মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য নিরসনের আহবান জানিয়ে আসন্ন ঈদেই শতভাগ উৎসব ভাতা এবং বাড়ি ভাড়া প্রদান, সরকারী স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের ন্যায় বেসরকারী মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ষষ্ঠ গ্রেড এবং সহ প্রধানদের ৭ম গ্রেড প্রদান, মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহ প্রধানদের দুটি উচ্চতর গ্রেড প্রদানের সুস্পষ্ট ঘোষনা প্রদান, বেসরকারী মাধ্যমিক শিক্ষকদের ঐচ্ছিক বদলী এবং প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহ প্রধানদের এন.টি.সিএ এর মাধ্যমে নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহন ও মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করন এর দাবীতে বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির আহবানে সারা দেশে একযোগে স্মারকলিপি প্রদান কমসুচী পালিত হয়। মাধ্যমিক শিক্ষাস্তরে বিদ্যমান পাঁটি বৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে প্রদানকৃত কেন্দ্রীয় কর্মসুচীর অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদানকালে ময়মনসিংহ জেলা শাখা কমিটির সভাপতি মো: সামছুল আলম, সাধারণ সম্পাদক খালিদ হিল্লোল, মহানগর কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মাহবুবুল আলম তরফদার, সাধারণ সম্পাদক মো: রুকন উদ্দিন, সদর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: খাইরুল আলম, শিক্ষক নেতা প্রিমিয়ার আইডিয়ার হাই স্কুল এর প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব মো: চাঁন মিয়া, পাটগুদাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী, জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও শ্যামগঞ্জ হাই স্কুল এর প্রধান শিক্ষক মো: মিজানুর রহমান, মাইজবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: জহিরুল হক, উত্তর দাপুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আবদুল করিম, শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: ইব্রাহিম খলিলসহ জেলার প্রধান শিক্ষকগন উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.