মোঃ মাইদুল ইসলাম
ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সোনাহাট রেলসেতুতে ওভারলোড নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণাধীন সেতুর দ্রুত বাস্তবায়ন এবং অবৈধ টোল আদায় রোধে উপজেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর যৌথ টিম গত ১২ আগস্ট অভিযান পরিচালনা করে।
ভূরুঙ্গামারী-সোনাহাট সড়কে দুধকুমার নদীর ওপর পুরাতন রেলসেতু দিয়ে ৫০০ সিএফটির বেশি পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ট্রাক বন্দোবস্তকারী ট্রান্সপোর্টগুলো নিয়ম অমান্য করে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকার বিনিময়ে একটি প্রভাবশালী মহল প্রশাসনের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।শুধু তাই নয় এদের পাশাপাশি চাঁদাবাজরাও দুরদুরান্ত থেকে আসা ট্রাকগুলো আটক করে কখনও সাংবাদিক আবার কখনও সমন্বয়ক এবং প্রশাসনের পরিচয় দিয়েও চাঁদাবাজি করে আসছে। সোনাহাট পুরাতন রেল সেতুটি মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় অতিরিক্ত ওভারলোডের কারণে প্রায়ই পাটাতন ভেঙে পড়ে, যার ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। দুধকুমার নদীর ওপর অবস্থিত এই রেলসেতুটি পণ্য পরিবহন, অসুস্থ রোগী, শিক্ষার্থী, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। স্থানীয় পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানিও হয়। সেতুর দুরবস্থার কারণে সরকার বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
পাশাপাশি, বিকল্প হিসেবে পাশের একটি সড়ক সেতুর নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতির কারণে তা সম্পন্ন হতে দীর্ঘ সময় লাগছে। স্থানীয়দের প্রতিবাদ সত্ত্বেও কার্যকর সমাধান মেলেনি।
গত ১১ আগস্ট রাত আনুমানিক আনুমানিক ১ টা ৩০ মিনিটে সোনাহাট স্থলবন্দর থেকে পাথর কিনে সাভার যাওয়ার পথে তিন যুবক ট্রাক আটক করে জোরপুর্বক ১ হাজার টাকা আদায় করে বলে ট্রাক ড্রাইভার টুটুল মিয়া অভিযোগ করেন। বিষয়টি তাৎক্ষনিকভাবে ভুরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ওসি,কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার ও কুড়িগ্রাম সেনাক্যাম্পে অবহিত করা হলে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দিনে রাতে পুলিশের টহল জোরদার করে বলে ভুরুঙ্গামারী থানার ওসি মোঃ আল হেলাল মাহমুদ নিশ্চিত করেন।
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপ জন মিত্র জানান “দীর্ঘদিন ধরে সেতুর পাটাতন ভেঙে জনভোগান্তি চলছে, মেরামতে ধীরগতি রয়েছে। এছাড়া নির্মাণাধীন সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করতে এবং অন্যান্য সমস্যার সমাধানে নির্বাহী প্রকৌশলী, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী, ট্রাক মালিক সমিতি ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে প্রশাসন ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে কাজ করবে।”
১২ আগষ্ট বিকেলে অভিযানের সময় কিছু ট্রাক প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। চালক ও গাড়ির কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি বহনকৃত পণ্যের ওজন পরীক্ষা করে একাধিক ট্রাককে ওভারলোড অবস্থায় পাওয়া যায়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়েছে।
ভুরুঙ্গামারী উপজেলা প্রশাসন, কুড়িগ্রাম সেনাবাহিনীর একটি টিম, ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করেন।প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সকল প্রকার চাঁদাবাজি বন্ধকরণে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
