হুমায়ুন কবির সূর্য, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: ২৩-০৮-২০২৩
কুড়িগ্রামে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় জাহাঙ্গীর আলম (২৫) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে বিজ্ঞ আদালত। বুধবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল আদালতের বিজ্ঞ বিচারক এস. এম. নূরুল ইসলাম এ রায় প্রদান করেন।
পলাতক যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী জাহাঙ্গীর আলম রায় ঘোষণার সময় অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি যশোর জেলার মনিরামপুর থানার ভরতপুর গ্রামের আব্দুল গণি সর্দারের ছেলে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোটে আব্দুর রাজ্জাক জানান, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার উত্তর তিলাই গ্রামে লজিং থেকে জাহাঙ্গীর আলম শিশু ও কিশোরীদের কুরআন শিক্ষা দিতেন। এসময় তের বছরের এক কিশোরীকে বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের প্রস্তাব দেন। কিশোরীটি প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় বিগত ২০১৫ সালের ২ মার্চ মাদ্রাসা যাওয়ার পথে কিশোরীটিকে মোটর সাইকেলে তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় জাহাঙ্গীর আলম। মেয়ের কোন খোঁজ না পেয়ে কিশোরীর মা বাদী হয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় ওই দিন রাতে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটি নারী ও শিশু আদালতের অন্তর্ভূক্ত হয় যা নারী ও শিশু মামলা নং ১৬০/২০১৫। পরবর্তীতে কিশোরীটি উদ্ধার হয়ে আদালতে তাকে অপহরণ ও ধর্ষণ করার সাক্ষ্য দেয়। ঘটনার দিন থেকে আসামী পলাতক থাকায় ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ এ শুনানি শেষ হয়। পরে আদালত আসামীর বিরুদ্ধে করা অভিযোগসমূহ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০২৩) এর ৭ ধারায় ১৪ বছর সশ্রম কারাদন্ড ও ৫হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৩(তিন) মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও একই আইনের ৯ (১) ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬(ছয়) মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করে রায় প্রদান করেন।
আসামী পলাতক থাকায় তার পক্ষে রাষ্ট্র থেকে নিয্ক্তু আইনজীবী অ্যাডভোকেট সরদার মো: তাজুল ইসলাম ও রাষ্ট্র পক্ষে পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক মামলাটি পরিচালনা করেন।
