ranisongkail-picture-00

রাণীশংকৈল প্রতিনিধি ঃ
ঘটি গরম চিড়া বিক্রী করেই স্বাচ্ছন্দেই সংসার চালাচ্ছেন পারবর্তীপুরের আঃ কাইয়ুম। চলছে দুই ছেলে মেয়ের পড়ালেখা। চোখে তার আশার আলো। শনিবার পড়ন্ত বৈকালে সীমা সু-ষ্টোরে বসে কথা বলছিলাম সহ কর্মীর সাথে। চোখে পড়তেই দুর থেকে তাকে ডাক দিল দৈনিক দিনকাল উপজেলা প্রতিনিধি খুরশিদ আলম শাওন। লোকটি কাছে আসতেই বলল পাঁচ টাকার চিড়া ভাজা দেন। লোকটি চিড়া মুড়ি দিতেই শাওন চিড়ার ঠোঙাটি আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল খান। বাজারের যে কোন খাবার খাওয়াতে আমি অভ্যস্থ নই তাই নিতে ইতস্তত করছিলাম। মুচকি হেসে আমাকে বলল খেয়ে দেখেন কি মজা। ইতস্ততা কাটিয়ে হাত বাড়িয়ে নিলাম। খেয়েই বুঝলাম কত মজাদার এটি। আগ্রহ করেই লোকটির সাথে কথা বললাম। সে জানাল দিনাজপুর জেলার পারবতীপুরের বাসুপাড়া গ্রামের মৃত সহিদুল হকের ছেলে আঃ কাইয়ুম। তার বয়স ৪৬ বছর। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে দিনাজপুর, ঠাকুরগাও জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘটিগরম চিড়া ভাজা বিক্রী করে আসছে। ব্যক্তিগত জীবনে পড়ালেখা করতে না পারলেও অনেক বড় স্বপ্ন নিয়ে ছেলে-মেয়েকে স্কুলে পড়াচ্ছে। স্বাচ্ছন্দে সংসার চালিয়ে ১ ছেলে ১ মেয়ের পড়ালেখার খরচ চালিয়ে আসছে। তাতে কোন রকম সমস্যা হচ্ছে না তার। উপজেলার বাসুপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে ছেলে মেয়ে পড়ালেখা করে। ছেলে উপবৃত্তি পায় মেয়েকে উপবৃত্তি দেওয়া হয়নি। সপ্তাহে বা পনের দিন অন্তর একদিন বাড়ি যায়। ঠাকুরগাও জেলার পীরগঞ্জ রেল ষ্টেশনে ৫০০ টাকায় ঘর ভাড়া করে থাকে। সারাদিন ঘটিগরম চিড়া ভাজা বিক্রী করে রাতে ভাড়া বাড়িতে ফিরে নিজেই ভাত রান্না করে খায়। রাতের রান্না করা ভাত সকালে খেয়ে প্রতিদিনের মতো আবার বেরিয়ে পড়ে ঘটিগরম চিড়া ভাজা বিক্রী করতে। তার ১৪ বছরের ফেরিকরা ব্যবসায় খুব স্বাচ্ছন্দ বোধ করে সে। তাকে দুপুরে হোটেলে ভাত খেতে হয়। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৩০০ টাকা টিকে। নিজের জায়গা জমি ছিলনা। প্রতিদিনের এই ব্যবসা চালিয়ে অল্প কিছু জমি কিনতে পেরেছে বাসা বাড়ি করার মতো। কাইয়ুম আলী জানায়, স্যার আমি জীবনে পড়ালেখা করতে পারিনি তাতে কি ! আমার ছেলে মেয়ে পড়ালেখা শিখে অনেক বড় হলে আমার পরিশ্রম আর স্বপ্ন দেখা সার্থক হবে। জীবনে আর কিছু চায়না। আপনারা আমার ছেলে মেয়ের জন্য দোয়া করবেন। কথাগুলো বলেই লোকটি আবার দ্রুত গতিতে হাঁটা শুরু করলো। লোকটি যতক্ষণ দৃষ্টি থাকলো দেখলাম সত্যিই কাইয়ুম আলীর ঘটিগরম চিড়া ভাড়া রুচিকর খাবার। এটি এলাকায় খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *