লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
সমাজকল্যাণ মন্ত্রীপুত্র রাকিবুজ্জামান আহমেদ এর ডাকে সারা না দেওয়ায় লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা বিদুৎ (নেসকো) অফিসে স্থানীয় ছাত্রলীগের হামলা, ভাংচুর ও অফিসের সহকারী প্রকৌশলী ও কর্মচারীদের মারধরের ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার বিকালে বগুড়ার নেসকোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে প্রধান করে রংপুর নেসকোর বিভাগীয় প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান তিন সদস্যের ওই তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে ওই হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে নেসকো রাজশাহী ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) জাকিরুল ইসলাম ঘটনা স্থল পরিদর্শনে এসে এক সাক্ষাতকারে সাফ জানিয়ে দেন ‘কালীগঞ্জ নেসকো অফিসে হামলার ঘটনায় মন্ত্রীপুত্রের কোন সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি’।
এদিকে সংবাদমাধ্যমে বিধিবহির্ভূত বক্তব্য প্রদানের অভিযোগে লাঞ্ছিতের শিকার কালিগঞ্জ উপজেলা নেসকো নির্বাহী প্রকৌশলী রকি চন্দ্র দাসকে সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুর পিএলসিতে সংযুক্ত করা হয়েছে। এসময় তিনি শুধু “খোরপোশ “ভাতা পাবেন। বুধবার (৩০ আগস্ট) নেসকোর উপ-মহাব্যবস্থাপক মোঃ রহমত উল্লাহ্ -ফারুক সাক্ষরিত একটি চিঠিতে তার বরখাস্তের বিষয়টি দপ্তর আদেশে বলা হয় যে, ”যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুরোধক্রমে এ দেশ জারি করা হলো।” এসময় তিনি কেবল”খোরকী ভাতা” উত্তলন করতে পারবেন বলেও ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
অপরদিকে ঘটনার পরদিন বুধবার সকালে বিচারের দাবীতে কালিগঞ্জ নেসকোর কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কাজ বন্ধ রেখে অফিস তালাবদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জহির ইমাম এসে অফিসের স্টাফদের ডেকে অফিস খোলা রাখার নির্দেশ দেন। পরে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তালা খুলে অফিস কক্ষে প্রবেশ করেন। ইউএনও চলে যাওয়ার পর তারা আবার সেবা বন্ধ রেখে অফিস তালাবদ্ধ করে রাখে। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে নেসকো রাজশাহী ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) জাকিরুল ইসলাম ঘটনা স্থল পরিদর্শনে আসলে আবার তালা খুলে অফিসের কার্যক্রম শুরু করা হয়।
এদিকে ঘটনার দুইদিন পেরিয়ে গেলেও
নেসকোর পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগও করা হয়নি।
কালিগঞ্জ থানার ওসি ইমতিয়াজ কবির বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনারদিন রাতে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এ ব্যাপারে রংপুর নেসকোর বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, কালীগঞ্জ নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর, প্রকৌশলী ও কর্মচারীদের মারধরের ঘটনা দুঃখজনক। এঘটনায় বগুড়ার নেসকোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা প্রতিবেদন জমা দিলেই আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ছেলে ও লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুজ্জামান আহমেদের ডাকে দেখা করতে না যাওয়ায় গত বুধবার দুপুরে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফুল, সহসভাপতি নুরুন্নবীসহ ১০ থেকে ১৫জন নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী রকি চন্দ্র দাসের অফিস কক্ষে প্রবেশ করে। এসময় তাঁরা রকি চন্দ্র দাসকে বলেন, ‘তুই জানিস রাকিব কে? তোকে এখানে মার্ডার করলে তোর কোন বাপ বাঁচাতে আসবে, তুই কাউকে পাত্তা দিস না।’ এরপর তাঁরা নেসকো অফিসের আলমারি ভাঙচুর করেন, ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ভেঙে ফেলেন এবং উপসহকারী প্রকৌশলীদের চড়থাপ্পড় দিয়ে বের করে দেন। এ সময় কর্মচারীদেরও মারধর করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *