ভুরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের গছিডাঙ্গা গ্রামে স্বামী পরিত্যক্তা এক সন্তানের জননীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পরে প্রভাবশালীদের চাপে গোপন সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করে বলেন, “আমি অসহায়। তাই তারা ঘটনাটি গোপনে মীমাংসা করে দিয়েছে। বিচার না পেয়ে আমি আল্লাহর কাছে বিচার চেয়েছি।”
স্থানীয় সূত্র জানায়, একই গ্রামের মৃত কালু মন্ডলের ছেলে মো. আকরাম আলী (৩৫) দীর্ঘদিন ধরে ওই নারীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল। এক পর্যায়ে গত জুন মাসে রাতের অন্ধকারে ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করে কোরআনে হাত রেখে বিয়ের শপথ নেয় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এরপর থেকে প্রায় ১০ থেকে ১২ বার রাতের আঁধারে তাকে ধর্ষণ করে।
গত ২৯ আগস্ট রাত আনুমানিক ১২টা ৫৪ মিনিটে আকরাম আলী আবারও ফোন করে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পরে প্রতারণা বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী তার স্বজনদের বিষয়টি জানালে ৩ সেপ্টেম্বর রাতে ধর্ষকের বড় ভাই আফজাল হোসেনের বাড়িতে একটি সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নজির হোসেন সরকারের উপস্থিতিতে আকরামের পক্ষ থেকে বিয়ের আশ্বাস দেওয়া হয়।
কিন্তু পরবর্তীতে তালবাহানা করে প্রায় ২০/২৫ দিন পার করা হয় এবং এক পর্যায়ে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে গোপনে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে আবারও একটি গোপন সালিশে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নজির হোসেন সরকার প্রথম বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করলেও বিয়ের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে দাবি করেন।
ভুরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আল হেলাল মাহমুদ জানান, “এ ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। তবে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
