স্টাফ রিপোর্টার-এশিয়ান বাংলা নিউজঃ
সারাদেশে জুলাই-আগষ্টের গণ অভ্যুত্থানে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর প্রতি জনসাধারণের একটি বিরুপ প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হলেও পুলিশের সুনাম পুনরায় ফিরিয়ে আনতে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি জনসাধারনের আস্থা ফিরিয়ে আনতে নিরলসভাবে কাজ করছেন কচাকাটা থানার ওসি নাজমুল আলম। শুধু তাই নয় নিয়মিত মাদক ও বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি,সকল প্রকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান ও সামাজিক সচেতনতামুলক কর্মকান্ডে কচাকাটা থানা এলাকার সর্বসাধারণের নিকট প্রশংসিত হয়েছেন কচাকাটা থানার ওসি মোঃ নাজমুল আলম। কুড়িগ্রাম জেলার কচাকাটা থানা একটি প্রত্যন্ত এলাকা। এই থানায় জমিজমা নিয়ে বিরোধ একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। এছাড়া বাল্য বিবাহ,অল্প বয়সী ছেলে-মেয়েদের পালিয়ে যাওয়ার প্রবনতা,নারী নির্যাতন,জুয়া,চুরি সমাজের খুবই সাধারণ চিত্র। ইতিপুর্বে কচাকাটা থানার অফিসার ইনচার্জগণ উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মাঝে মাঝে কার্যক্রম পরিচালনা করলেও কচাকাটা থানার বর্তমান ওসি মোঃ নাজমুল আলমের আমলে তা চোখে পরার মত। নাজমুল আলম প্রায় ৩ মাস পুর্বে ফেব্রুয়ারী মাসে ওসি হিসাবে কচাকাটা থানায় যোগদান করেন। যোগদান করেই তিনি এইসব অপরাধের বিরুদ্ধে গড়ে তুলেছেন সামাজিক আন্দোলন। তিনি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিয়মিত কচাকাটা থানার স্কুল,কলেজ,মাদ্রাসায় গমন করে ছাত্র/ছাত্রীদের বর্তমান সময়ে অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের কুফল,বাল্য বিবাহের কুফলসহ বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন করতে নিজেই প্রতিটি শ্রেণী কক্ষে গিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র/ছাত্রীদের ক্লাস ফাকি দিয়ে বাড়িতে চলে যাওয়া,বিভিন্ন আড্ডাবাজির প্রবনতা কমে এসেছে। প্রতি শুক্রবার থানা এলাকার প্রতিটি মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করে মসজিদে আসা মুসল্লিদের সাথে
জমিজমা নিয়ে বিরোধ,বাল্য বিবাহ,নারীর প্রতি সহিংসতা, মাদক নির্মুলে জনগণের পুলিশকে সহযোগিতা করে মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মানে কাজ করাসহ নানান বিষয়ে জনগণকে সচেতন করা এবং প্রতিটি হাটবাজার এলাকায় গিয়ে নিয়মিত বিট পুলিশিং করার ফলে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুর্বের তুলনায় অনেক উন্নতি এবং সামাজিক অপরাধ কমেছে। বৃদ্ধি পেয়েছে পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা। সচেতন জনসাধারণ কোন আইনগত সমস্যায় পরলে নিজেরাই থানায় গিয়ে আইনী পরামর্শ নিয়ে সমাধান করায় থানায় দালালদের দৌরাত্ম বন্ধ হয়েছে। কচাকাটা থানাকে ইতিমধ্যে ঘুষ ও দালাল মুক্ত ঘোষনা করেছেন ওসি নাজমুল আলম। নিয়মিত পুলিশের টহল জোরদার থাকায় এলাকায় চুরি, ছিনতাই, সামাজিক দাঙ্গা ও নানাবিধ অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ করে স্বল্প সময়ের মধ্যে জন সাধারণের ভালোবাসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন ওসি নাজমুল আলম। থানা এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের উত্ত্যক্তকারীদের আড্ডাবাজদের নেই আনাগোনা, যৌতুকবিরোধী বিভিন্ন গণসচেতনতা সৃষ্টি করেছেন ওসি নাজমুল আলম। এতে নারীরা না বলা কথাগুলো বলার জন্য এগিয়ে এসেছেন। স্কুল কলেজের সামনে ও সন্ধ্যার পর কিশোরদের কারণ ছাড়া আড্ডা দেওয়া বন্ধ করেছেন ওসি। এসব কর্মকান্ডে সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন ওসি নাজমুল আলম।কচাকাটা থানার সুবলপাড় বাজারের কেদার ইউপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ মিলন, মাহবুব জামান রনজু ব্যাপারী,ব্যবসায়ী আবু তোহা,কচাকাটা বাজারের ফখরুল ইসলাম,কেদার ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদ বাচ্চু ব্যাপারী,কেদার ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান তোলা ব্যাপারী,কচাকাটা ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদত হোসেন মাষ্টার জানান,ওসি নাজমুল আলম যোগদানের পর থেকে কচাকাটা থানা এলাকায় আগের থেকে অনেক অপরাধ কমেছে। বন্ধ হয়েছে জুয়া, বাল্যবিবাহ সহ সামাজিক অপরাধ। কচাকাটা থানার ওসি মোঃ নাজমুল আলম যোগদানের পর থেকেই শুরু করেছেন উঠান বৈঠক সহ সচেতনতামুলক কর্মকান্ড। আমরা সাধারণ জনগণ তার আহবানে সাড়া দিয়ে অপরাধের বিরুদ্ধে কাজ করছি। সরকারী নিয়মানুযায়ী একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এই থানায় এমন মানবিক ওসি থাকলে কচাকাটা থানায় শতভাগ অপরাধ নির্মুল হবে বলে আমরা আশাবাদী।
শুধু তাই নয় দেশের প্রতিটি থানায় এমন অফিসার ইনচার্জগণ দায়িত্ব পালন করলে সারাদেশে বিভিন্ন অপরাধমুলক কর্মকান্ড দ্রুত কমে যাবে বলে আমরা মনে করি।
বিষয়টি নিয়ে কচাকাটা থানার ওসি মো. নাজমুল আলমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাল্যবিবাহ, অল্প বয়সের ছেলে মেয়েদের পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা রোধে সচেতনতামুলক আলোচনা ও নারী নির্যাতন, জুয়া এবং জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ সংক্রান্ত রোধে নিয়মিত উঠান বৈঠক করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এসব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে আমি সামাজিক আন্দোলন শুরু করেছি। থানা এলাকায় অপরাধ অনেকাংশ কমেছে। মামলা রুজুর প্রবণতা কমেছে। অপরাধ দমনে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।এমন জনবান্ধব ও মানবিক ওসিকে একটি নির্দিষ্ট পরিমান সময়ে এসব কর্মকান্ড পরিচালনা করতে এবং এসব জনবান্ধব কাজের স্বীকৃতি হিসাবে পুলিশের বিশেষ পদকের ব্যবস্থা করলে অন্যান্য থানার ওসিগণও উৎসাহ পাবে এমন নিরলসভাবে কাজ করলে দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে বলে সুধীমহল মনে করেন।
