
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামে চারটি চরের মানুষ বিদ্যুৎ পেল। মঙ্গলবার দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রথমআলোর চর আলোর পাঠশালা চত্বর থেকে সুইস টিপে বিদ্যুৎ এর উদ্বোধন করেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. রেজাউর করিম। প্রথম বার বিদ্যুৎ পেয়ে মানুষ উল্লোসিত।
এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন, কুড়িগ্রাম লালমনিহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিবার্হী প্রকৌশলী খন্দকার খাদেমুল ইসলাম, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জেনারেল ম্যানেজার মো.মহিতুল ইসলাম, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার রথীন্দ্র নার্থ বর্মন, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার নাগেশ্বরী আতিকুর রহমান, বক্তব্য রাখেন প্রথম আলো চরের বাসিন্দা ফজলার রহমান।
বিদ্যুৎত পেয়ে খুশিতে কুড়িগ্রাম প্রথম আলো চরের বাসিন্দা হাশেম আলী মুন্সি বলেন জীবনেও ভাবী নাই চরোত কারেন্ট আসপে। আলো জ্বলবে। এ্যালা মোবাইল চার্জ দিবার জন্য নদীর ওপার যাওয়া নাগবার নয়। বিদ্যুৎ পেয়ে
কৃষক মফিজুল ইসলাম বলেন চরের মানুষের কাছে আজ আনন্দের দিন। কোন দিন চিন্তাও করি নাই কারেন্টের বাতি জ্বলবে। খুব ভাল নাগবার নাগছে। সারা জীবন নেমপো আর হারিকেন জ্বলে আছিলাম। এখন কারেন্টের বাতি জলাম।
উদ্বোধন শেষে জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম বলেন এ রকম প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের মানুষ বিদ্যুৎ পাবে কোন দিন ভাবতেই পারেনি। তা সম্ভব হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কারনে। মুজিব বর্ষ উপলক্ষে তিনি বলেছেন সকলের ঘরে আলো পৌছে যাবে। আশা করি এ বছরে কুড়িগ্রামের সকল ঘরে আলো পৌছে যাবে। আজ শুভ সুচনা হলো মাত্র।
কুড়িগ্রাম লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জেনারেল ম্যানেজার মো.মহিতুল ইসলাম বলেন চরাঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌছে দেয়া একটি চ্যালেঞ্জ। নদনদীর তলদেশ দিয়ে কেবল নেটওয়াকের মাধ্যমে সংযোগ দিতে হচ্ছে। এতে চরাঞ্চলের মানুষ উপকৃত হবে। জীবন যাত্রা বদলে যাবে।
চরের বাসিন্দা ফজলার রহমান বলেন আমাদের কি সৌভাগ্য এই চর থাকি সকল চরের বাতি জ্বললো। মানে জেলা প্রশাসক সাহেব প্রথম আলো চরে আসি উদ্বোধন করলো। এর চায়া আর কি আনন্দো আছে। হামার স্কুল আছিল না প্রথম আলো ট্রাষ্ট স্কুল দিছে। ছাওয়ারা ন্যামপো দিয়া পড়াশুনা করে। এ্যালা কারেন্ট আসলো। বাতির জলে পড়বেন। ধান ভাঙ্গা মিল হইবে। কারেন্টের শ্যালো মেশিন দিয়া জমিত পানি দিবার পাম। কত সুবিধা হইলো।
কুড়িগ্রাম লালমনিহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানায় বিদ্যুৎতায়িত চর গুলো হলো প্রথম আলো চর, চর রসুলপুর, চর কাফনা ও মাঝের চর। এর মধ্যে প্রথম আলো চরে গ্রাহকের সংখ্যা ২৫৪, রসুলপুর ৩১৮, কাফনা ১৭৫ ও মাঝের চরে ৮৭ জনসহ মোট ৮শত ৪৩ জন। এর মধ্যে সোমবার পেয়েছে ২৭৩ জন। পর্যায় ক্রমে সব গুলো গ্রহককে সংযোগ দেয়া হবে।
সমিতি আরও জানায় নাগেশ্বরী উপজেলার নুনখাওয়া এলাকায় দুধকুমার নদের তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবেলের মাধ্যমে পাইপ লাইন নিয়ে চর গুলোতে সংযোগ দেয়া হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম লালমনিহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নিবার্হী প্রকৌশলী খন্দকার খাদেমুল ইসলাম বলেন মুজিব বর্ষে শতভাগ অফগ্রিড এলাকা বিদ্যুৎতায়ন করা হবে। এই লক্ষে কুড়িগ্রাম জেলার ৯ উপজেলার ব্রক্ষপুত্র, দুধকুমার ও তিস্তা নদীর তলদেশ দিয়ে কেবল নেটওয়াকের মাধ্যমে ৪০টি চরাঞ্চলের ১৭ হাজার ৫ শত ৬০ জনকে সংযোগ দেয়া হবে। ১৮টি পয়েন্টে কেবল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংযোগ দেয়া হবে। এর মধ্যে ২টির চালুকরা হলো। বাকী ১৬টির কাজ চলমান রয়েছে। এ দুইটি হলো নাগেশ্বরী উপজেলার নুনখাওয়া ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি।
