Oplus_16908288

স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম খোদাদাদ হোসেনকে ঘিরে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে স্থানীয় মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তাঁর বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম আজম সরকার ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৫ নম্বর কাপাসিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এইচ এম খোদাদাদ হোসেন ৩৫তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। শিক্ষাজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি ২০১৭ সালের মে মাসে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি), কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব এবং সর্বশেষ নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, কক্সবাজারে দায়িত্ব পালনকালে রোহিঙ্গা ক্যাম্প-সংক্রান্ত উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে ২০২৪ সালের আগস্টে তাঁকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে সরকারি কোনো তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের রায়ের কপি প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।
এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রশাসনে পদায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনা এড়ানোর কথা থাকলেও, এইচ এম খোদাদাদ হোসেনের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় অনেকে। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত পরিবারের সদস্য হওয়ায় তাঁর নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মনজু মিয়া বলেন, “এইচ এম খোদাদাদ হোসেন এলাকায় সজিব নামে পরিচিত। তাঁর বাবা নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন। এ ধরনের বিষয়ে পদায়নের আগে সংশ্লিষ্টদের পারিবারিক ও রাজনৈতিক পটভূমি বিবেচনা করা উচিত ছিল।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার ইউএনও এইচ এম খোদাদাদ হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। একইভাবে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় নাগেশ্বরী উপজেলায় নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, প্রশাসনের প্রতি জনআস্থা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ পদে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও রাজনৈতিক বিতর্কমুক্ত কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *