স্টাফ রিপোর্টার
উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের প্রভাবে কুড়িগ্রামের দুধকুমার নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাত্র ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে নদীর পানি ৫৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এতে নদীতীরবর্তী বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বন্যা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) সকালে পানি বৃদ্ধির গতি তুলনামূলক ধীর থাকলেও দুপুরের পর তা হঠাৎ বেড়ে যায়। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুধকুমার নদীর পানি মাত্র ৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেলেও দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ৩২ সেন্টিমিটার। এরপর বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আরও ২৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে নদীর পানি সমতল ২৯ দশমিক ৪৯ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছে, যা বিপদসীমার মাত্র ১১ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।
পানি বৃদ্ধির ফলে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকডাঙ্গা, ছিট পাইকেরছড়া ও চর বলদিয়া এবং নাগেশ্বরী উপজেলার চরবিষ্ণুপুর, বালাবাড়ি, লুছনি ও ফান্দরচর এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত বসতবাড়িতে পানি না ঢুকলেও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। বাড়ির আশপাশে পানি উঠে যাওয়ায় স্থানীয়দের যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
পাইকেরছড়া এলাকার বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, দুপুরের পর থেকে দুধকুমার নদীর পানি খুব দ্রুত বাড়ছে। ইতোমধ্যে পাইকেরছড়া, পাইকডাঙ্গাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে।
এদিকে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানিও ধীরগতিতে বাড়ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী তিন দিন কুড়িগ্রামের সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ে নদীর পানি সতর্কসীমা কিংবা বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে জেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে আবারও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, “উজানের ঢলে দুধকুমার নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যান্য নদ-নদীর পানিও ধীরে ধীরে বাড়ছে। বন্যা পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ৭২ ঘণ্টায় পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি হতে পারে।”
স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *