নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানাধীন পশ্চিম বাকলিয়ার ডিসি রোড, বউবাজার, জামাল মোল্লা গেট এবং সংলগ্ন এলাকাগুলো বর্তমানে মাদকের নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। দিনদুপুরে প্রকাশ্যেই চলছে মাদকের জমজমাট হাট। এই অবৈধ কারবারের নেপথ্যে রয়েছে আরিফ ও আলী নামের দুই চিহ্নিত মাদক কারবারি।
মাস্টারমাইন্ড আরিফের নতুন কৌশল: অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, এই পুরো অবৈধ কারবারের মূল হোতা আরিফ ওরফে ডিলার আরিফ। একাধিক মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করলেও জামিনে বেরিয়ে এসে সে অত্যন্ত চতুরতার সাথে তার সাম্রাজ্য পরিচালনা করে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে আরিফ ও আলী তাদের ব্যবসা মডেলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। তারা এখন আর সরাসরি খুচরা পর্যায়ে মাদক বিক্রি করে না। মাস্টারমাইন্ড আরিফ নিজে আড়ালে থেকে পাইকারি বিক্রেতায় রূপ নিয়েছে এবং প্রতি চালানে ১০০ থেকে ১৫০ পিস ইয়াবা সরবরাহ করছে। তাদের সিন্ডিকেটটি বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন বাহক বা প্রতিনিধি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট খুচরা বিক্রেতার কাছে চালান পৌঁছে দিচ্ছে।
সরবরাহের নির্দিষ্ট সময়: অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, প্রতিদিন দুপুর ১২টার দিকে এবং রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে নির্দিষ্ট পয়েন্টগুলোতে সশরীরে উপস্থিত থেকে এই সিন্ডিকেট নিরাপদে ইয়াবার চালান পৌঁছে দেয়। নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টে একচেটিয়া ইয়াবা বিক্রির কারণে পুরো এলাকায় তীব্র বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে এবং দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছে।
সামাজিক বিপর্যয় ও নিম্নআয়ের মানুষের ধ্বংস: এই অবাধ মাদক বাণিজ্যের ফলে এলাকায় নেমে এসেছে চরম সামাজিক বিপর্যয়। স্থানীয় রিকশাচালক ও দিনমজুরেরা তাদের সারাদিনের কষ্টার্জিত অর্থ পরিবারের মুখে আহার না তুলে এই ইয়াবার পেছনে উড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে পরিবারগুলোতে যেমন অশান্তি বাড়ছে, তেমনি এলাকার উঠতি বয়সি তরুণ ও কিশোররাও মারাত্মকভাবে আসক্ত হয়ে পড়ছে। অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে নিষ্পাপ শিশুদের ভবিষ্যৎ।
ত্রাসের রাজত্ব ও সাধারণ মানুষের নীরবতা: এলাকার দোকানদার ও সাধারণ মানুষ এ বিষয়ে সব জানলেও আরিফ-আলীর ক্যাডার বাহিনীর দাপট ও ত্রাসের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, প্রতিবাদ করলেই তারা এসে দোকানপাট ভাঙচুর করে কিংবা কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে ত্রাস সৃষ্টি করে। প্রশাসন একটু কঠোর অবস্থান নিলে সাধারণ মানুষ এই স্বৈরাচারী অবস্থা থেকে মুক্তি পেত।
প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই মাদক সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ করতে পুলিশ প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।
এ বিষয়ে বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইউনুছ খন্দকার জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো পড়ুন