নূর-ই- আলম সিদ্দিক,নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধঃ
“স্যার কোনোদিন ১০টা কোনোদিন ১১টায় আইসে- চারটে করি কেলাশ নেয় আযানের সময় ছুটি দেয়” জানতে চাইলে এমনটিই জানায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মাফিয়া জান্নাত মাওয়া। মাওয়ার কথা শেষ হতে না হতেই মাওয়ার মায়ের জোরালো অভিযোগ – কি আর কই ভাই! স্কুলত মাস্টার টাইম মতো আইসে না, যদিও আইসে তাও আবার হাববেলা পড়ে ছুটি দেয়,বাকিবেলা বাধ্য হয়য়া ছোয়াক মাদ্রেসাত পাঠাই। সরেজমিনে এমনটাই জানান কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানার কেদার ইউনিয়নের বালাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক একজন শিক্ষার্থী ও তার অভিভাবক। শুধু তাই নয়- স্থানীয় ষাটোর্ধ শাবান আলী জানায়,আমার নাতি এই স্কুলের পড়ে, স্কুলে ঠিকমতো পড়াশোনা না হওয়ায় স্কুলের ছোয়াপোয়ার তিনভাগের দুইভাগে কওমী মাদ্রাসায় যায়,না যায় তা কি করে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ও অভিভাবকদের অনেকের সাথে কথা বললে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সরেজমিনে মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) বিদ্যালয়টির প্রথম শিফটের ক্লাশ শেষে অন্যান্য স্কুলের বিরতি কালীন সময় শেষ হতে না হতেই ২টা ২৫ মিনিটে স্কুলের ছুটি দিয়ে স্কুলে দরজায় তালা ঝুলতে দেখা গেছে।
এ অবস্থা চলমান থাকায় বিপাকে অভিভাবকরা তাদের বাচ্চাদের বিদ্যার্জনে পাঠাচ্ছেন পার্শ্ববর্তী অন্য প্রতিষ্ঠানে। শুধু তাই নয়! একইদিন ১২টা ২৬ মিনিটে এ প্রতিবেদক স্কুলে গিয়ে মোট ১৬৩ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১০/১৫ জন শিক্ষার্থী সহ মোট ৪ জন শিক্ষকের মধ্য থেকে মোঃ ফরহাদ নামে ১জন সহকারী শিক্ষককে উপস্থিত পায়। উপস্থিত সহকারী শিক্ষক ফরহাদের সাথে কথা বলার মাঝে চলতি মাসে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতা দেখতে গিয়ে বেড়িয়ে আসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শ্রেণী শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতার বিষয়। শিক্ষকরা তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতায় দীর্ঘদিন তাদের হাজিরা না করিয়ে নিয়মবহির্ভূত স্কুল পরিচালনা করে আসছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
এ অবস্থায় লিখিত ডকুমেন্টারি পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বালাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন- আমি তো অফিসিয়াল কাজে নাগেশ্বরীতে ছিলাম,১জন মেডিকেললিফে ছুটিতে আছেন, উনি ২৮দিন ছুটি শেষে আর ব্যাক ফেরেননি,ওনার বেতন-ভাতা বন্ধ আছে। আর ১ জন প্রেগন্যান্সি উনি কিছুদিন আগে প্রেগন্যান্সিলিভ নিতে চেয়েছিল,সম্ভবত উনি কালকে প্রেগন্যান্সিলিভ নিবেন। আর স্কুল বন্ধের বিষয়টি তো জানিনা, এটা ফরহাদ সাহেবের সাথে কথা বলে জানতে হবে।
সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার রায়হান কবির বলেন- বালাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দুই শিফটের,ওখানে তো ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকার কথা,বিষয়টি তদন্ত করে বিধি মোতাবেক পদক্ষেপ নেয়া হবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লুৎফর রহমান বলেন,এ বিষয়ে লিখিত ডকুমেন্টারি পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *