চট্টগ্রাম ব্যুরো

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তান মুসলিম লীগের শীর্ষনেতা, বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান, পীরে বাঙ্গাল আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ্ বলেন, বিশ্ব মুসলিমের ভাষা, কৃষ্টি, জীবনাচার ও রাষ্ট্র পৃথক পৃথক হলেও জাতিসত্ত্বা এক ও অভিন্ন। ইসলামে অন্য ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তার বিধান থাকলেও অন্য কোনো ধর্মে ইসলামের নীতি-আদর্শে সহনশীলতা না থাকায় বিশ্বের দেশে দেশে মুসলিম দমন-পীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ থেমে নেই। ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান সৃষ্টি না হলে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনের সুযোগ হত না।
তিনি আজ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, মঙ্গলবার, বা’দ আসর চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা সংলগ্ন আলমগীর খানক্বাহ্ শরীফে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি, সার্ক ল’ইয়ার ফোরাম সেক্রেটারি, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী মহসিন রশীদের সাথে মতবিনিময়ে এ সব কথা বলেন।
সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ে উপস্থিত ছিলেন, পাকিস্তানের পেশাওয়ার অ্যাবোটাবাদ সিরিকোট দরবারের শাহযাদাহ্ ব্যারিস্টার আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ্, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মহাসচিব প্রবীণ রাজনীতিবিদ সাবেক এমপি কাজী আবুল খায়ের, সহ-সভাপতি রোটারিয়ান এম এ মতিন, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী নাজমুল হাসান সেলিম, শিক্ষা ও ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মানবাধিকার গবেষক মাওলানা মুহাম্মদ জহুরুল আনোয়ার।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি চট্টগ্রাম মহানগর শাখার অন্যতম শীর্ষ নেতা আর ইউ চৌধুরী শাহিনের সঞ্চালনায় এতে মুসলিম লীগ সভাপতি মহসিন রশীদ দলের প্রতিষ্ঠাতা নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ (রাহ্.), দ্বিজাতি তত্ত্বের উদ্ভাবক আ’লা হযরত আল্লামা শাহ্ আহমাদ রেযা খান (রাহ্.), মহাকবি ড. আল্লামা ইকবাল (রাহ্.), পাকিস্তানের জনক ক্বায়েদে আযম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ (রাহ্.), শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক্ব (রাহ্.), পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সাবেক স্পীকার ও অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট এ কে এম ফজলুল কাদের চৌধুরী (রাহ্.), দলের পুনর্গঠন সভাপতি খান এ সবুর (রাহ্.), এ দেশে আক্বায়িদে আহলে সুন্নাত, মাসলাকে আ’লা হযরত, ত্বরীক্বাহ্-এ ক্বাদিরিয়াহ্ ও ইসলামী শিক্ষা বিস্তারে অসাধারণ অবদানের জন্য সিরিকোট দরবারের তৎকালীন শায়খ আল্লামা সৈয়দ আহমদ শাহ্ সিরিকোটি (রাহ), আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ ত্বৈয়ব শাহ্ (রাহ্), শেরে বাংলা আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ আযীযুল হক্ব আল্ ক্বাদিরী (রাহ্) প্রমুখকে স্মরণ করেন। তিনি বাংলাদেশ-পাকিস্তান উভয় দেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে মুসলিম লীগের রাজনৈতিক দর্শন সম্প্রসারণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের মুসলিম লীগের অতীত গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরেন। তিনি উভয় দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে পাকিস্তানের আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আল্লামা সাবির শাহর যুগান্তকারী ভূমিকা কামনা করেন।
অত্যন্ত প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত মতবিনিময়ে মুসলিম জাতির চিরশত্রু ইয়াহুদী কর্তৃক ফিলিস্তিনী মুসলিম গণহত্যার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করা হয়। পরিশেষে উভয় দেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের কল্যাণসহ মুসলিম বিশ্বের শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নতি কামনা করে আল্লাহর দরবারে মুনাজাত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো পড়ুন