আইনের সঠিক প্রয়োগ নেই লালমনি বহুভাষী সাঁটলিপি কম ঃ কম কলেজের নামে এম.পি’ওর টাকা উত্তোলন করে নিচ্ছে শফিউদ্দিন কর্মাস কলেজ

লালমনিরহাট অফিস \ অবিশ্বাস হলেও সত্য লালমনিরহাটে লালমনি বহুভাষী সাঁটলিপি কম্পিউটার কর্মাশিয়াল কলেজের নামে এমপিও ভুক্তির টাকা শেখ শফিউদ্দিন কর্মাস কলেজ কতর্ৃপক্ষ উত্তোলন করে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর ধরে লালমনি বহুভাষী সাঁটলিপি কর্মাশিয়াল কলেজের আইডি নম্বরে তারা বেতন-ভাতা সহ সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসলেও সংশ্লিষ্ট কতর্ৃপক্ষ শেখ শফিউদ্দিন কর্মাস কলেজের অধ্যক্ষ সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি। জানা গেছে, শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিক্ষানুরাগী মোঃ গোলাম ফারুক বিগত ১৯৯১ সালে শহরের প্রান কেন্দ্র টিএন্ডটি রোডস্থ এলাকায় নিজ উদ্যোগে লালমনি বহুভাষী সাঁটলিপি কম্পিউটার কর্মাশিয়াল কলেজ প্রতিষ্টা করেন। প্রতিষ্টানটি স্বল্প মেয়াদী ( টাইপ রাইটিং ওসাট হ্যান্ড) পরিচালনার জন্য প্রতিষ্টা করেন তিনি। পরবর্তীতে বগুড়া নট্রামস হতে নিবন্ধন পুর্বক পরিচালনা করতে থাকেন। ইতিমধ্যে ২৫/৩/১৯৯৫ ইং তারিখে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে একই সালে ১৩,১৪ ও ১৫ই জানুয়ারীর এক কর্মশালায় নতুন শিক্ষা ব্যবস্থাপনা কোর্চ চালুর জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। যা কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে উচ্চ মাধ্যমিক ব্যবসা ব্যবস্থাপনা কোর্চ প্রবর্তন করা হয়। উক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা এসকল প্রতিষ্টানগুলো চালুর জন্য জেলা প্রশাসক এর গঠিত কমিটির মাধ্যমে উক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার জন্য উক্ত প্রতিষ্টানটিকে এক নম্বর প্রতিষ্টান হিসেবে মনোনয়ন করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে তৎকালীন জেলা প্রশাসক কতর্ৃক এক পত্র প্রেরন করা হয়। প্রেক্ষিতে ১০/২/১৯৯৬ ইং তারিখে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড-ঢাকা কারিকুলামের পরিচালক আ ম শফিউদ্দিন আহম্মেদ এর স্বাক্ষরিত পত্রে লালমনি বহুভাষী সাঁটলিপি কম্পিউটার কর্মাশিয়াল কলেজ পরিচালনার জন্য অনুমতি প্রদান করা হয়। যার স্বারক নং-বাকা-শিবো/শ (৪)/৯৫/৪৭৮/১০৬। এরই প্রেক্ষিতে ১৯৯৬ সালের মে মাসে উক্ত কলেজ ৮৯০৪০১৭২০১নং ইনডেক্সে এমপিও ভুক্ত করা হয়। প্রতিষ্টানটি এমপিও ভুক্ত হওয়ার পর একই কলেজের অধ্যক্ষ পদ লাভ করার জন্য একই কলেজের প্রভাষক এন্তাজুর রহমান দৌড়-ঝাপ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে বিপুল পরিমান উৎকোচের মাধ্যমে তিনি অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন বলে এক অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে। অধ্যক্ষ হিসেবে এন্তাজুর রহমান নিয়োগ পাওয়ার পর শুরু করেন শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ বানিজ্য। এছাড়াও ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে ৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্বসাৎ করেন প্রতিষ্টানের। যা ডিবি পুলিশ কতর্ৃক তদন্ত পুর্বক সদর থানায় একটি মামলা হয়। যার থানার মামলা নং-১০ তাং-১০/৯/২০০০ইং এবং জি আর মামলা নং ১৯৯/২০০১ ইং। থানায় মামলা দায়েরের পর হতে অধ্যক্ষ এন্তাজুর রহমান প্রতিষ্টাতা গোলাম ফারুককে তৎকালীন সরকারের ক্ষমতার দাপটে বিভিন্ন ভাবে হেনেস্তা করতে থাকেন। তার অব্যাহত হুমকীতে প্রতিষ্টাতা গোলাম ফারুক নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ সুপার অফিসে ১৭/৯/২০০০ইং তারিখে একটি আবেদন করেন। পরবর্তীতে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের একজন উপমন্ত্রীর সহযোগিতায় সকল বিধি বিধান উপেক্ষা করে প্রতিষ্টানের নাম হটাৎ করে পরিবর্তনসহ শেখ শফিউদ্দিন কর্মাস কলেজ নাম দিয়ে বর্তমানেও প্রতিষ্টানটি পরিচালনা করে আসছেন। যা নিয়ম বর্হিভুত বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি প্রতিষ্টানের প্রতিষ্টাতা গোলাম ফারুককে তার সদস্য পদ থেকে জোড়পুর্বক বাতিল করেন। তবে উক্ত প্রতিষ্টানের নাম বাতিল করা হলেও পুর্বের একই আইডি নম্বরে বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছেন তারা। প্রতিষ্টাতা গোলাম ফারুক ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক সহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক অভিযোগ দায়ের করেন। প্রেক্ষিতে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভুমি) জি আর সারোয়ার গত ৫/১২/২০১৯ইং তারিখে তদন্ত পুর্বক প্রতিবেদন দাখিল করেন। কিন্তু প্রতিবেদনটি সুস্পষ্ট না হওয়ায় জেলা প্রশাসক পুনঃ তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ প্রদান করেছেন। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক মোঃ আবু জাফর। প্রতিষ্টাতা গোলাম ফারুক বলেন, এই স্বাধীন দেশে আইন থাকলেও তার সঠিক প্রয়োগ না হওয়ায় বিধি বর্হিভুত ভাবে প্রতিষ্টানের নাম পরিবর্তনসহ আমার সদস্য পদ জোড়পুর্বক বাতিল করা হয়েছে। গোলাম ফারুক যে একজন শিক্ষানুরাগী তার প্রমান পাওয়া গেছে লালমনিরহাট কলেজিয়েট স্কুলে বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন নামে এক শহীদ মিনার নির্মান করেন নিজ উদ্যোগে। তিনি আরও সাংবাদিকদের বলেন, উক্ত অধ্যক্ষ এন্তাজুর রহমান বিভিন্ন অনিয়মও দুর্নীতির মাধ্যমে ইতোমধ্যে তিনি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। কলেজ প্রতিষ্টা ও এমপিও ভুক্তির ২৬ বছর অতিবাহিত হলেও উক্ত কলেজে অদ্যাবধি কোন প্রকার অডিট হয়নি বলে কলেজ সুত্রে জানা গেছে। এব্যাপারে অধ্যক্ষ এন্তাজুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি কোন সন্তোজজনক জবাব দিতে পারেননি। তদন্তের বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট টি এম মমিন বলেন, বর্তমানে মহামারী করোনা ও বন্যা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছি। তবে যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *