কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।
কুড়িগ্রাম পৌরসভার এডিপি’র একাধিক প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্ণীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, প্রকল্প সমুহের কাজ শুরুর পূর্বে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বালু, ইট, ইটের খোয়া, রড, সিমেন্ট, স্টোনস চিপ, সিলিন্ডার ইত্যাদি নির্মাণসামগ্রীর সঠিকতা যাচাই করতে হয়। এবং সেটি এলজিইডি’র ল্যাবরেটরীতে সরকারী বিবি মোতাবেক টেস্ট ফি চালানের মাধ্যমে জমা দিয়ে নির্মাণ সামগ্রীর সঠিকতা যাচাই করে টেস্ট রিপোর্ট নিয়ে শুরু এবং সম্পন্ন করার নিয়ম। কিন্তু কুড়িগ্রাম পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কামাল আহমেদ ও সার্ভেয়ার রুপলাল এর নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট ওই টেস্ট না করিয়ে , এলজিইডি’র ল্যাবরেটরী টেকনিশিয়ান আবু তৈয়ব সরকার ( মুকুল), সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মামুন খাঁন এবং নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ এর স্বাক্ষর স্কান করে বসিয়ে দিয়ে এলজিইডি’র সিল ব্যবহার করে ভুয়া টেস্ট রিপোর্ট তৈরী করে একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ করার অনুমতি দিয়েছেন।এরমধ্যে অনেক ঠিকাদার কাজ সম্পন্ন করে বিলও উত্তোলন করেছেন। কুড়িগ্রাম পৌরসভায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের রক্ষিত ফাইলে পাওয়া টেস্ট রিপোর্টের স্মারক নং, প্যাকেজ নাম্বারের অস্তিত্বই নেই এলজিইডি’ র রেজিস্ট্রারে। এটি নিশ্চিত করেছেন এলজিইডি’র ল্যাব টেকনিশিয়ান আবু তৈয়ব সরকার ( মুকুল)। বরং এইসব প্যাকেজ ও স্মারক নাম্বারে পৌরসভার বাইরে বিভিন্ন উপজেলায় উন্নয়ন প্রকল্পে নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর টেস্ট রিপোর্টের নাম পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে স্কুল ও ব্রীজের মত প্রকল্প। এলজিইডি’র ল্যাব রেজিস্ট্রার এ মেসার্স এন এফ ট্রেডার্স এর ল্যাব / কুড়ি/২০২০/২৬৪ স্মারকে স্টোনস চিপ এর টেস্ট রিপোর্ট পাওয়া গেছে রাজারহাট উপজেলার নাজিম খাঁন ইউনিয়নের রাজমাল্লিরহাট এলাকায় একটি কাজের নাম। অনুরূপ, দত্ত এন্টারপ্রাইজ সহ একাধিক প্রতিষ্ঠান এর ভূয়া টেস্ট রিপোর্ট ফাইলে সংযুক্ত দোখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিল প্রদান এবং বিল প্রদানের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। অথচ এলজিইডিতে কোন টেস্ট না করিয়ে প্রতিটি টেস্ট রিপোর্টের জন্য ঠিকাদারের কাছ থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী কামাল আহমেদ নির্ধারিত রাজস্ব ফি গ্রহন করেছেন। উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানগুলো কোন রকম টেস্ট রিপোর্ট ছাড়াই অত্যন্ত নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে লক্ষলক্ষ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেয়া এবং জবাবদিহিতা না থাকায়, নিম্নমানের কাজ করে লক্ষলক্ষ টাকা হরিলুটের অভিযোগ রয়েছে।

কুড়িগ্রাম পৌরসভা প্রথম শ্রেনীর পৌরসভা হলেও এর রাস্তাঘাট ড্রেনেজ ব্যবস্থা খারাপ অবস্থায় থাকায় জনমনে রয়েছে অসন্তোষ। উচ্চহারে পৌরকর ধার্য্য করে আদায় হলেও পৌরসভার নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত পৌরবাসি।

টেস্ট রিপোর্টের ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী কামাল আহমেদ এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি কোন প্রকার তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, এলজিইডি কুড়িগ্রামকে ল্যাব টেস্টের জন্য চিঠি দিতে বলেন আমাদের ।

এব্যাপারে মেয়র আব্দুল জলিলকে একাধিকবার মোবাইলে রিং দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *