নাগেশ্বরীতে জমিজমার দ্বন্দ্বে বাড়িতে  হামলার অভিযোগ

নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি –
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে জমি সংক্রান্ত দ্বন্দের জেরে  প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বাড়িতে হামলা,ভাঙচুর ও  অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে  । এ সময় ভাংচুরকারীদের ৩ জনকে আটক করেন এলাকাবাসী। পরে পুলিশ এসে তাদেরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। শনিবার সকাল দশটার দিকে
নাগেশ্বরী পৌরসভার কামারপাড়া এলাকায়  এ ঘটনা ঘটে।
ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার বাড়ির মালিক  সোলায়মান আলীর অভিযোগ পৌরসভার  মৃত আমান উল্লাহ আমানের ছেলে এবিএম জাকিউল ইসলাম চন্দন গং এর  সাথে দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। প্রতিপক্ষ চন্দন গং বিভিন্ন সময় তাদের বাড়ি উচ্ছেদসহ প্রাণ নাশের হুমকী দিয়ে আসছিল। এক পর্যায়ে গতকাল শনিবার সকালের দিকে তার লোকজন ধারালো অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালায়  এবং একটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।এসময় স্থানীয় লোকজন ও নাগেশ্বরী  ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট  এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভুক্তভোগী সোলায়মান আলী বলেন, আমি ২০০৬ সালের দিকে সাড়ে ২৯ শতক জমি কিনেছি। যা আমার ভোগদখলে আছে। কিন্তু প্রতিপক্ষ চন্দন গং ওই  জমির মধ্যে সাড়ে সাত শতক জমি তার নিজের বলে দাবি করছেন। যা ভিত্তিহীন। আজ সকালে তার ৩০/৪০ জন  লোক এসে আমাদের বাড়িতে হামলা ও ভাংচুরসহ ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।  এসময় তারা টাকাপয়সা, স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। থানায় অভিযোগের প্রস্তুতি চলছে।
প্রতিপক্ষ  এবিএম জাকিউল ইসলাম চন্দন  বলেন, আমাদের ক্রয়কৃত জমি সোলায়মান এবার জবরদখল করে ধান চাষ করেছেন। আজ সেই জমি উদ্ধার করতে গেলে তারা লোকজন নিয়ে এসে আমাদের উপর হামলা করে এবং তিনজনকে আটক করে রাখে। পরে তারাই তাদের বাড়িতে ভাংচুর এবং পরিত্যাক্ত একটি ঘরে আগুন ধরিয়ে  দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা চলছে । 
নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিসে ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মী আজিজুল হক জানান, একটি টিনের ঘরে আগুন লেগেছিল। তাত্ক্ষণিক তা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এতে তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  নবিউল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এলাকাবাসীর হাতে আটক তিনজনকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। এখনো  কোন পক্ষের অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.