স্টাফ রিপিটার।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড মেছনির পাড় এলাকায় বিয়ের দাবিতে ভোলানাথ নামের এক হিন্দু যুবকের বাড়িতে অনশণ শুরু করেছেন যশোহরের নড়াইল থেকে আসা এক মুসলিম তরুণী। তরুণীকে আসতে দেখেই বাড়ি থেকে সটকে পড়ে সকলে।
গতকাল ২৯শে জুন সোমবার থেকে ওই যুবকের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন করছেন তরুণী ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যশোহরের নড়াইলের ওই তরুণীর সাথে নাগেশ্বরীর মেছনির পাড় এলাকার ধেরেন্দ্র নাথ (ধেরেন) এর পুত্র ভোলানাথের সাথে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তরুণীর দাবি গত ২১মে, প্রায় দুই বছর আগে তারা সনাতন (হিন্দু) ধর্মীয় রীতি মেনে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে গাজীপুরের একটি ভাড়া বাসায় দীর্ঘদিন একসাথে সংসার করে আসছিল।
অনশনরত তরুণী প্রতিবেদককে জানান, ভোলা আমার সাথে প্রতারণা করেছে। আমরা দুই বছর ধরে গাজীপুরে একসাথে সংসার করছি। কিন্তু সম্প্রতি ভোলানাথ আমাদের বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করে এবং তার মায়ের অসুস্থতার কথা বলে আমাকে ফেলে রেখে পালিয়ে নিজের গ্রামের বাড়িতে চলে আসে। আমি চাই সে মুসলিম হয়ে আমার সাথে সংসার করুক।
নিরুপায় হয়ে আমি আমার অধিকার আদায়ের জন্য নড়াইল থেকে এখানে এসে ভোলার বাড়িতে অনশন করছি। ও আমাকে স্ত্রী হিসেবে মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আমি এখান থেকে যাব না।”
এদিকে তরুণী বাড়িতে আসার পর থেকেই অভিযুক্ত যুবক ভোলানাথ ও তার পরিবার বাড়ি থেকে আত্মগোপন করেন। ভোলানাথের পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিয়ের প্রমান দেখতে চাইলে ছবি ভিডিও ছাড়া কোন লিখিত কাগজ দিতে পারে নাই।
তরুণী নড়াইল সদর ডাকঘর তুলারাম পুর চাছরা গ্রামের লিকু মিয়ার মেয়ে।
পরবর্তীতে ছেলের বাড়িতে কেউ না থাকায় মেয়েটির নিরাপত্তার জন্য পাশের বাড়ির আজিজার রহমান মেকার তার বাড়িতে আশ্রয় দেয়। আজিজার রহমান বলেন, যেহেতু তার দাবি অনুযায়ী ভোলা তার স্বামী। আর ভোলা সহ তার পরিবার পলাতক তাই আমি মেয়েটিকে থানায় নিয়ে নিরাপদে বা তার অভিভাবকদের হাতে তুলে দিতে চাই।
ওই তরুণীর বাবা মায়ের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তাদের ফোনে পাওয়া যায় নি।
এ ব্যপারে নাগেশ্বরী থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ হিল জামান জানায়, বিষয়টি আমি লোক মুখে শুনেছি, তবে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
