mail-google

ইশরাত জাহান চৌধুরী, মৌলভীবাজার ::
আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর বুধবার প্রয়াত সমাজকল্যাণমন্ত্রী বীরমুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মহসিন আলীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষ্যে তার পরিবার এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। পরিবার ও সংগঠন সূত্রে জানা গেছে- ঈদের পর দিন হওয়ায় ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি। তবে এদিন সকালে প্রয়াত সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর কবরে আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। জেলা ছাত্রলীগ মন্ত্রীর বাসভবন প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা করবে। এতে আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মসজিদে দোয়া, মন্দির ও গীর্জায় প্রার্থণাসভা অনুষ্ঠিত হবে। বাদ এশা পরিবারের উদ্যোগে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে ১ অক্টোবর। এতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে দেশ আর দেশের মানুষকে অনেক দিয়েছেন এই মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ গঠনে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রচুর কাজ করেছেন। সংসদ সদস্য হবার আগে মৌলভীবাজার পৌরসভায় পরপর ৩ বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি বিএনপি নেতা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানকে বিপুল ভোটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে সেবারে কোনো মন্ত্রীত্ব পাননি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আবার বিজয়ী হবার পর তাকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। তৃণমূলের এই নেতা সম্মানিত হন তার কাজের জন্য। সৈয়দ মহসিন আলীর মায়ের নাম আছকিরুনন্নেছা খানম। বাবা সৈয়দ আশরাফ আলী ছিলেন ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ীক প্রয়োজনে তিনি মৌলভীবাজার থেকে কলকাতা চলে যান। কলকাতার আলীপুরে ছিলো তার বিশাল বাড়ি। আলীপুরের সেই বাড়িতে ১৯৪৮ সালের ১২ই ডিসেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন সৈয়দ মহসীন আলী। ৫ ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। সৈয়দ মহসিন আলীর শিক্ষা জীবন শুরু হয় কলকাতায়। তিনি কলকাতার সেন্টজেবিয়ার্স স্কুলে জুনিয়র কেমব্রিজ ও সিনিয়র কেমব্রিজ পাস করেন। পরবর্তীকালে আবার বাংলাদেশে এসে বাংলা মাধ্যমে কিছুদিন পড়াশুনা করেন। তবে পরবর্তীতে তিনি আবার কলকাতা থেকে ম্যানেজমেন্টে ডিপ্লোমা করেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। দেশমাতৃকার প্রতি তার মমত্ববোধের কারণে স্বতস্ফূর্তভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে। সম্মুখ সমরে যুদ্ধচলাকালে গুলিবিদ্ধও হয়েছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সিলেট বিভাগে সিএনসি স্পেশাল ব্যাচের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কাজ করেছেন যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ গঠনেও। তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক কাজে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। মৌলভীবাজার মুহকুমার রেডক্রিসেন্ট সোসাইটিতে তিনি ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীকালে জেলা আওয়ামী লীগেরও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতাত্তোরকালে তিনিই একমাত্র জননেতা যিনি পৌরসভায় পর পর ৩ বার বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯২ সালে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে তাকে শ্রেষ্ঠ পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করে। ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পগুলোকে ঢেলে সাজিয়েছেন। সেখানে এখন বহুমুখী বাস্তবসম্মত প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। সমাজসেবায় অবদান রাখার জন্য তিনি ভারতের নেহেরু সাম্য সম্মাননা ও আচার্য দীনেশ চন্দ্র সেন সম্মাননা স্বর্ণপদক লাভ করেন। সাহিত্য ও সাংবাদিকতা ছিলো তার পছন্দের বিষয়। অবসরে তিনি বই পড়তে ভালবাসতেন। কবি-লেখকদের সঙ্গে নিয়মিত আড্ডা দিতেন। দেশের বড় বড় সাংবাদিকদের অনেকেই ছিলেন তার ব্যক্তিগত বন্ধু। তিনি একসময় বাংলাদেশ টাইমসের প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গান তার প্রিয় একটি বিষয়। ধ্রুপদী, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরণের গানই তার মুখস্ত ছিলো। তার স্মৃতিতে প্রায় ৫ হাজার গানের সংগ্রহ ছিলো। সমাজকল্যাণে তার প্রিয় সংগীত ছিলো ‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য’।
সমাজকল্যাণে তিনি এভাবেই তার নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে গেছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবারও সাংসদ নির্বাচিত হবার পর তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সমাজকল্যাণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। উল্লেখ্য- সমাজকল্যান মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী ড়ত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।