unnamed
ঢাকা অফিসঃ
মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃতি করে শ্সাকগোষ্টি লাখো শহীদের আত্মদানকে অমর্যাদা করছে অভিমত প্রকাশ করে বাংলাদেশ ন্যাপ নেতৃবৃন্দ বলেছেন, যতদিন স্বাধীনতা সংগ্রাম আর সশ¯্র মুক্তিযুদ্ধের সকল ঘটনাগুলোকে সঠিকভাবে উপস্থাপন না করা হবে ততদিন জাতি হিসাবে আমরা মাথা উচু করে দাড়াতে পারবো না। একদিনে বা একটি ঘোষনার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ স্বাধীন হয় নাই। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পূর্বে স্বাধীকার থেকে স্বাধীনতা আন্দোলন-মুক্তযুদ্ধ সকল ঘটনার বাকে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়া উচিত। ইতহাসকে আপন গতিতে চলতে দেয়া উচিত। ইতিহাসের গতিরোধ করার চেষ্টা কখনো শুভ নয়।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে নয়াপল্টনস্থ যাদু মিয়া মিলনায়তনে ‘৩মার্চ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ দিবস স্মরণে’ বাংলাদেশ কৃষক ন্যাপ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া। কৃষক ন্যাপ যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী ফারুক হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ গ্রহন করেন ন্যাপ সম্পাদক মোঃ কামাল ভুইয়া, মতিয়ারা চৌধুরী মিনু, নগর সদস্য সচিব মোঃ শহীদুননবী ডাবলু, কৃষক ন্যাপ আবুল কালাম, আবদুল্লাহ আল কাউছারী, আবুল হাশেম প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ একদিনে শুরু হয়নি। বাংলার জনগনকে মুক্তির স্বপ্ন দেখিয়ে মুক্তিযুদ্ধের দিকে ধাবিত করতে ইতিহাসের বাকে অনেকরই অবদান রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ ছিল এশটি দীর্ঘ অথচ ধারাবাহিক আন্দোলনের ফসল। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় মজলুম জননেতা মওরানা ভাসানী, মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান, জেনারেল ওসমানী, আ.স.ম রব, শাহজাহান সিরাজসহ সকলের অবদানকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেযা উচিত। তিনি বলেছেন, মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসকে বিশেষ ব্যক্তি, গোষ্টি বা দলের একক অবদান দাবী করে প্রকারান্তরে ইতহাসকে বিকৃতি করা হচ্ছে। এভাবে শাসকগোষ্টি গত ৪৪ বছরে ইতিহাসের স্বাভাবিক গতিপথকে বাঁধাগ্রস্থ করেছে। ফলে আজ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্ত চলছে। যে যার অবস্থান থেকে ইতিহাস নির্মানের চেষ্টা করছে যা জাতি হিসাবে আমাদের লজ্জিত করছে।
এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া আরো বলেছেন, স্বাধীকার থেকে স্বাধীনতা এবং চ’ড়ান্ত লাড়াই সশ¯্র মুক্তিযুদ্ধ এই দীর্ঘ পরিক্রমায় সকলের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে ব্যর্থ হলে আগামী প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। মনে রাখতে হবে ক্ষমতা প্রয়োগ করে অপচেষ্টা কখনো শুভ ফল বয়ে আনবে না। ইতিহাসকে আপন গতিতে চলতে দিতে হবে অন্যতায় ইতিহাসের কাঠগড়ায়ই একদিন আমাদের বিচার হবে।
সভাপতির বক্তব্যে কাজী ফারুক হোসেন বলেছেন, জাতি হিসাবে আমাদের শ্রেষ্ঠ অর্জন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। আর শ্রেষ্ঠ অর্জনকে যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে ব্যর্থ হলে ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না। অগ্নিঝরা মুক্তিসংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস নির্মান সকলের দায়িত্ব। নির্মোহভাবে ইতিহাস নির্মানে ব্যর্থ হলে ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না। স্বাধীনত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় যার যতটুকু অবদান তাঁকে তার স্বীকৃতি দেযা আজ সময়ের দাবী।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।