লালমনিরহাট প্রতিনিধি :

লালমনিরহাটে এসিড নিক্ষেপ ও নারী নির্যাতন মামলার সাজাপ্রাপ্ত প্রধান আসামি কে গ্রেফতারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে মামলার বাদি।

মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারী) দুপুর ২ টায় শহরের আলোরুপা মোড়স্থ সাপ্তাহিক নতুন বাংলার সংবাদ কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী জানান, ২০১৬ সালের ২৫ অক্টোবর আদিতমারী উপজেলার, বড় কমলাবাড়ী গ্রামের মুসা মিয়ার ছেলে আফজাল হোসেন আপন (৩০) এর সাথে ৫ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য্য করে উভয় পরিবারের লোকেদের উপস্থিতিতে বিয়ে হয় ভিকটিমের।

বছরখানেক পড়ে ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবী করেন অর্থলোভী আফজাল হোসেন আপন। ভিকটিমের বাবার মৃত্যুর পর তারদের দুই ভাই বোনকে পরের বাড়ীতে ঝিয়ের কাজ করে লালন পালন করেছেন মা জাহানারা। তার পরেও অতিকষ্টে ধারদেনা করে আমার বিধবা মা ৫০ হাজার টাকা সাথে ২ভরি স্বর্ন যৌতুক বুঝিয়ে দেন আফজালকে।

গত ২০১৭ সালের ২ মার্চ দিবাগত রাতে খাবার খেয়ে শয়ন ঘড়ে গেলে আমার সাবেক স্বামী মোঃ আফজাল হোসেন ওরফে আপন এর সাথে যৌতুকের বাকি টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ৩ দিন ধরে তার পরিবারের লোকজন মিলে তাকে ব্যাপক মারধরের পর পুর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শয়নঘড়ে থাকা একটি এসিড ভর্তি বোতলের মুখ খুলে ভিকটিমের গোপনাঙ্গে নিক্ষেপ করে যৌতুক লোভী আফজাল।

পরে তার আত্মচিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসে এবং তাকে উদ্ধার করে পরিবারের লোকজনকে খবর দিলে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিজে বাদী হয়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক দপ্তরের সহযোগিতায় লালমনিরহাট আদালতে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী মামলার বাদি।

৬ বছরের বেশি সময় ধরে চলা মামলায় ১ বারের জন্যেও আদালতে হাজির হয়নি নারী নির্যাতন মামলার প্রধান আসামি আফজাল হোসেন ওরফে (আপন)। ঘটনার দিন থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। আদিতমারী থানায় ২টি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে আসামি আফজাল হোসেন আপনের নামে। মামলায় অভিযুক্ত ২নাম্বার আসামী মোঃ মুসা মিয়া (৫৫) এর পিতার নাম মামলার চার্জশিটে ভুল দেওয়ায় একজন অপরাধী অপরাধ করে রেহাই পেয়ে যাচ্ছে।

লিখত বক্তব্যে ভুক্তভোগী দাবী করেন, চাইলেই আসামি ধরতে পারে পুলিশ। আসামি একধিকবার মোবাইল ফোনে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিয়েছে, যা পুলিশকে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কিন্তু পুলিশ অদৃশ্য কারনে আসামিকে গ্রেপ্তার করছে না। উল্টো পুলিশের পক্ষ থেকে আসামী ধরিয়ে দিতে বাদির পরিবারকে বলা হচ্ছে। অসহায় বিধাব মা মেয়ের চিকিৎসা ব্যায় ও মামলার খরচ চালিয়ে নিস্ব হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে বলেন মামলার বাদি। বর্তমানে পরিবারটি অন্যের বাশ ঝারে পলিথিনে মোড়ানো ছাপরা ঘরে মানবেতর জিবন যাপন করছে।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মামলার বাদি বলেন, আপনারা জাতির দর্পন। আপনাদের লিখনি অসহায়দের সহায় হয়। তাই আপনাদের কাছে বিধবা মায়ের অসহায় মেয়ের আকুতি, আমার মামলার প্রধান আসামী মোঃ আফজাল হোসেনকে গ্রেফতার পুর্বক বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশ প্রতি পালনে আমার রায় কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ যেন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *