কচাকাটা (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানা এলাকায় অভিনব পদ্ধতিতে গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতরে লুকিয়ে ভারতীয় গাঁজা ঢাকায় পাচারের চেষ্টাকালে এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে পৃথক অভিযানে সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবাসহ আরও এক মাদক পরিবহনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কচাকাটা থানাধীন তালতলা এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এবং কচাকাটা থানার অফিসার ইনচার্জ ।
অভিযান চলাকালে সন্দেহভাজন এক যুবকের জিম্মায় থাকা একটি খালি গ্যাস সিলিন্ডার তল্লাশি করে পুলিশ। পরে সিলিন্ডারটি কেটে ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা প্রায় ৮ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মোঃ সুজন মিয়া (২৩) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি কচাকাটা থানার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শোভার কুঠি এলাকার বাসিন্দা এবং শামসুল হকের ছেলে।
পুলিশের দাবি, আটক সুজন দীর্ঘদিন ধরে অভিনব কৌশলে সীমান্ত এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল।
এদিকে একই দিনে কচাকাটা থানাধীন নারায়ণপুর ইউনিয়নের বালারহাট সীমান্ত এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযান চালানো হয়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নৌকাযোগে আসা এক ব্যক্তিকে তল্লাশি করে তার কাছ থেকে ১৯৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় মোঃ মোন্নাফ (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। তিনি নারায়ণপুর ইউনিয়নের বালারহাট এলাকার বাসিন্দা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক মোন্নাফ পুলিশকে জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কচাকাটা এলাকার কথিত কুখ্যাত মাদক কারবারি শফিকুল ইসলাম ভাষার হয়ে নিয়মিত মাদক পরিবহনের কাজ করে আসছিলেন।
ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে যারা মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক নির্মূলে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, আটক দুইজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। উদ্ধারকৃত গাঁজা ও ইয়াবা জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে।
