ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
যেখানে সরকার সারাদেশে নদ-নদী, খাল-বিল ও সরকারি জমি থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, সেখানে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নদী রক্ষা বাঁধ দখল করে আধা-পাকা ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের কালিরহাট বাজার সংলগ্ন দুধকুমার নদীর তীরবর্তী পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের জায়গা দখল করে আধা-পাকা ঘর নির্মাণ করছেন বেলদহ গ্রামের মৃত জশমত আলীর ছেলে খলিলুর রহমান। স্থানীয়রা বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে এলাকাবাসী গত ২১ মে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, কালিরহাট বাজারের পাশ দিয়ে প্রবাহিত দুধকুমার নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে বাজার, ফসলি জমি ও বসতভিটা রক্ষায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে “কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত দুধকুমার নদী ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন” প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫ কোটি ৪৯ লাখ ১৯ হাজার ৫৪১ টাকা ব্যয়ে একটি সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে পাউবো। অথচ সেই গুরুত্বপূর্ণ বাঁধের উপরই প্রায় ২ শতাংশ জায়গাজুড়ে স্থাপনা নির্মাণ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম, মিনহাজ উদ্দিন, আমিনুল প্রামানিক, নজরুল ইসলাম ও রাজু অভিযোগ করে বলেন, “সরকার জনগণের জানমাল রক্ষায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণ করেছে। অথচ একজন ব্যক্তি প্রভাব খাটিয়ে সেই বাঁধ দখল করে ঘর তুলছেন। এতে বাঁধ দুর্বল হয়ে আগামী বর্ষায় ভেঙে গেলে কালিরহাট বাজারসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
তারা আরও বলেন, “সরকারি সম্পত্তি দখল করে প্রকাশ্যে স্থাপনা নির্মাণ হলেও রহস্যজনক কারণে এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করলে বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।”
অভিযুক্ত খলিলুর রহমান দাবি করেন, “জায়গাটি আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি ছিল। আগে আমার ছোট ভাই সাত্তার আলীর একটি ঘর ছিল সেখানে। পরে বাঁধ নির্মাণের সময় জমি অধিগ্রহণ করা হয়। জায়গাটি ফাঁকা থাকায় আমি ঘর তুলছি। সরকার যদি ঘর সরাতে বলে, তাহলে সরিয়ে ফেলবো।”
এ বিষয়ে পাইকেরছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সিরাজুল ইসলাম বাবু বলেন, “জায়গাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন। সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কেউ স্থাপনা করতে চাইলে আইনগত অনুমতি বা ইজারা নিয়েই করতে হবে।”
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্না হক জানান, “অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পাউবোর জায়গায় ঘর নির্মাণ না করতে মৌখিকভাবে নিষেধ করা হয়েছে। বিষয়টি ভূরুঙ্গামারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে। এরপরও স্থাপনা অপসারণ না করলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, নদী রক্ষা বাঁধের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অবৈধ দখল শুধু আইনের লঙ্ঘন নয়, এটি জননিরাপত্তার জন্যও ভয়াবহ হুমকি। বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
