লালমনিরহাট অফিস \ লালমনিরহাটের সীমান্ত এলাকাগুলোতে চোরাচালান ও মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিনত হয়েছে। বেপরোয়া হয়ে উঠেছে চোরাকারবারী ও মাদক ব্যবসায়ীরা। তারা ভারত থেকে প্রতিদিন গরু, গঁাজা, ফেন্সিডিল, ইয়াবা ট্যাবলেটসহ বিভিন্ন ভারতীয় নিষিদ্ধ পন্য অবাধে পঁাচার করে আনছে বাংলাদেশে। সীমান্ত রক্ষী বাহিনী ও থানা পুলিশের সাথে আতঁাত করে এবং সাপ্তাহিক ও মাসিক চুক্তির মাধ্যমে ওইসব ভারতীয় পন্য পাঁচার করে এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাটানো হচ্ছে। দীর্ঘদিন থেকে সীমান্ত এলাকার একটি শক্তিশালী সঙ্গবদ্ধ চোরাচালানির দল প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদে এই অবৈধ ব্যবসা করে আসলেও তাদেরকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন গ্রেফতার করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। মাঝে মধ্যে ২/১ জন চুনোপুটি ধরা পরলেও মুল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরা ছোয়ার বাইরে। গরু ও মাদক চোরাকারবারীদের একটি বিশাল সিন্ডিকেট প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদে বিনা বাধায় এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে দীর্ঘদিন থেকে। যেসব চোরাকারবারী ও মাদক ব্যবসায়ী বিশাল সিন্ডিকেট এর মাধ্যমে ব্যবসা চালিয়ে আসছে তারা হলো ঃ কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের খামারভাতী গ্রামের ফজলু মেম্বার (ডাকাত) এর পুত্র ফয়জার আলী, মৃতঃ ছকমাল এর পুত্র মশিয়ার রহমান মাদক ব্যবসায়ী, আজিজার রহমানের পুত্র ইব্রাহিম মাদক ব্যবসায়ী, হাবু শেখ এর পুত্র রফিক, কাশেম আলির পুত্র মালেক, মৃত: জয়নালের পুত্র আনারুল, মৃত: শাহাজাত আলীর পুত্র আজাহার, জেয়ার আলীর পুত্র তালেব আলী। এছাড়াও একই ইউনিয়নের কাউয়ার বাজার এর মাদক ব্যবসায়ী ব্রেশন, চন্দ্রপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের পুত্র সুমন, আব্দুল মজিদ কাকড়ার পুত্র লায়লা, মৃত: অভয় এর পুত্র বাদশা মিয়া, নজরুল ইসলামের পুত্র এরশাদ, মৃত: ফজর আলীর পুত্র খয়বর, মৃত: আকবর আলীর পুত্র আব্দুর রহীম, মৃত: তছলিম উদ্দিন (চোর) এর পুত্র আলো মেম্বার, হুন্ডি ব্যবসায়ী পনির, মৃত: অনন্ত রায়ের পুত্র উদির, বক্কর আলীর পুত্র রিয়াজুল, গোলাপ মিয়ার পুত্র সাজু, নন্দ, মোসলেম এর পুত্র মজিদুল, মৃত: নছিমুদ্দিনের পুত্র ফারুক। এদিকে বোতলা গ্রামের লক্ষনের পুত্র দীপ চঁাদ, বলাইরহাট গ্রামের মৃত: হাসেম আলী (সাবেক চেয়ারম্যান) এর পুত্র লিটন, একই গ্রামের জামাল, মৃত: মফিজ উদ্দিনের পুত্র আনোয়ার, সেবক দাস গ্রামের হোসেন কারীর পুত্র ভুট্টু ও অনীল এর পুত্র রিদয়, বুড়িরদিঘী ক্যাম্পের পাশে মৃত: মহশিন আলীর পুত্র (ডিবি লাইনম্যান) মফিজুল ইসলাম কটা। উল্লেখিতরা বিজিবি, থানা পুলিশসহ বিভিন্ন প্রশাসনের লাইনম্যান এবং মাদক ব্যবসায়ী ও গরু ব্যবসায়ী এবং হুন্ডি ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানায়। এদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। কালীগঞ্জ উপজেলার বহুল আলোচিত ২১ মামলার আসামি কুখ্যাত মাদক সম্রাট মনির হোসেন (৪০) কে ধারালো অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত বুধবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের লতাবর কানি পাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। উক্ত মনিরের বিরুদ্ধে ২১টি মামলা থাকলেও তাকে আদালতে প্রেরণের সময় মাত্র ৫টি মামলার কথা উল্লেখ করেছেন হাতীবান্ধা থানা পুলিশ। ওদিকে শহরের রামকৃষ্ণ মিশন রোডস্থ মৃত: কালীপদ ভদ্রের ছেলে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী সুজিৎ ভদ্রকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। জানা গেছে, গ্রাম থেকে শুরু করে শহরের পাড়া-মহল্লা, অলিগলিসহ সব জায়াগায় এখন পাওয়া যাচ্ছে ফেন্সিডিল ও গঁাজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক। আর এই সব কাজে মদদ দেয়ার পাশাপাশি অনেকটা প্রকাশ্যে মাদক সেবনের অভিযোগ রয়েছে খোদ পুলিশের এক এ এস আই এর বিরুদ্ধে। শুধু সেবন নয়, মাদকের সঙ্গে নানাভাবে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে জেলার একাধিক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। জেলা সদরসহ ৫টি উপজেলা বেশ কিছুদিন ধরে মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিনত হয়েছে। পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী, দহগ্রাম আঙ্গুরপোতা সহ উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে দেদারছে পাচার হয়ে আসছে সর্বগ্রাসী মাদকদ্রব্য। এছাড়াও হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা, কেতকিবাড়ী, দইখাওয়া, বনচৌকি, কালীগঞ্জ উপজেলার চামটার হাট, চন্দ্রপুর, বুড়িরহাট, জাওরানি, লোহাকুচী, আদিতমারীর উপজেলার দর্গাপুর, এবং সদর উপজেলার মোগলহাট, কুলাঘাট ও বড়বাড়ীর কলাখাওয়াঘাট এলাকা দিয়ে প্রতিদিন ভারতীয় গরু ও হাজার হাজার বোতল ফেন্সিডিল এবং গঁাজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক অবাধে পাচার হয়ে আসছে। সীমান্ত এলাকাগুলোতে হরহামেশা চোখে পড়ে প্রকাশ্য মাদক সেবনের দৃশ্য। আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি, হাজীগঞ্জ, দুলালী, মরিচবাড়ি, মান্নানের চৌপথি, কুমড়িরহাট, কমলাবাড়ি, দুরাকুটি মাদক ব্যবসার জন্য নিরাপদ মনে করছে মাদক কারবারিরা। পুলিশের ছত্র ছায়াতেই মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করছেন উল্লেখিত স্থানের সচেতন মানুষ। এব্যাপারে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান জেলা পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা। যুব সমাজ রক্ষায় মাদক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপড়তা বাড়ানো জরুরি বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে প্রকাশ্যে মাদক সেবনের অভিযোগে উক্ত পুলিশ কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসানকে প্রথমে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয় । তার বিরুদ্ধে ডিপার্টমেন্টালি ব্যবস্থা গ্রহন না করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য পরবর্তীতে তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে।

