মোঃ রফিকুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে ভোটের মাঠে জোয়ার তুলেছেন জননেতা তাসভীর-উল-ইসলাম।
খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত মহান জাতীয় সংসদের ২৭, কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসন। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আসনে বিএনপি দলীয় ভাবে জননেতা তাসভীর-উল-ইসলামকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছেন। তিনি ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় মাঠে নেমে পড়েছেন। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনের চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য তাসভীর-উল-ইসলাম প্রচারণার শুরুতেই জনগণের উদ্দেশ্যে বলেছেন, “আমার কোন ব্যক্তিগত আকাঙ্খা বা চাওয়া-পাওয়া নেই। আমি শুধুমাত্র এলাকার জনগণের সেবা করতে চাই। এছাড়াও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন তিস্তা মহাপরিকল্পনা উন্নয়ন প্রকল্প এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনাও বাস্তবায়ন করতে চাই।” গত ১১ নভেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর বিকালে প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। তাসভীর-উল-ইসলাম বলেন, “আমাদের কুড়িগ্রাম জেলা নদী ভাঙ্গন প্রবণ এলাকা। এলাকাবাসীকে বাঁচানো আমাদের শহীদ জিয়ার প্রতিজ্ঞা ছিল। বেঁচে থাকলে আল্লাহর রহমতে সেই কাজগুলো বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ। কুড়িগ্রাম একটি অবহেলিত জেলা। এখানে এখনও কোনো শিল্পকারখানা নেই। বেকারত্ব বেশি, অনেক শিক্ষিত যুবকের কর্মসংস্থান নেই। আমি আগামীতে তাদের জন্য কাজ করতে চাই। লক্ষ্য, আল্লাহ যদি সহায় হন, আমি শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমার এলাকার মানুষের জন্য কাজ করবো।” তিনি আরও বলেন, “উত্তরের ৬ জেলার ৭ কোটি মানুষের দুঃখের কারণ তিস্তা। বন্যা ও খরায় তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এজন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন করেছি এবং এর বাস্তবায়ন চাই।” এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উলিপুর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র তারিক আবুল আলা চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হায়দার আলী মিঞা, যুগ্ম আহ্বায়ক ওবায়দুর রহমান বুলবুল, আব্দুর রশিদ সরকার, এ্যাডভোকেট ফকরুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম ফুলু, আবেদ আলী সরকার, আবুল কালাম আজাদ খোকা, এরশাদুল হাবিব নয়ন, রমেশ সাহা সহিদুর রহমান, মুস্তাফিজার রহমান, ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মুর্তজা মুকুল আজিজার রহমান মাস্টার, ডা. ইফতেখারুল ইসলাম, এহছানুল করিম, সিরাজুল ইসলাম সাজু, প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক, জমিদার রায় সরকার প্রমুখ। এদিকে একটি মহল পরিকল্পিত ভাবে বিএনপির ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করতে মাঠে নেমে পড়েছে। সাধারণ নেতাকর্মীদের বক্তব্য হচ্ছে- যখন উলিপুরে বিএনপির কমিটি গঠিত হলো, তখনও দেখা গেছে কিছু মানুষ ব্যক্তিগত গ্রুপিং করে মিছিল করেছে। এর ফলেই কয়েকজনকে বহিষ্কার হতে হয়েছে, কেউ আবার দল ত্যাগ করেছেন। এখন আসন্ন নির্বাচন উলিপুরের বিএনপির জন্য আরও কঠিন ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ। শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ডা. আক্কাস আলী সরকার। এই বাস্তবতায় দলের ঐক্যই সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করেন বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। কিন্তু দলের সিদ্ধান্ত যাঁরা মানতে চান না, তাঁরা আসলে কোন বিএনপি করছেন? দল যখন তাসভীর-উল-ইসলামকে অফিসিয়ালি দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে তখন কেন প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি। যারা বহিষ্কার হয়েছে বা দল ত্যাগ করেছে, তাদের আবার কিসের আন্দোলন? দল থেকে বাইরে দাঁড়িয়ে দলীয় সিদ্ধান্তকে অমান্য করে আন্দোলন করা কি আন্দোলন, নাকি ব্যক্তিগত অভিমান-স্বার্থের রাজনীতি? এ প্রশ্ন বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের। বিএনপির সিংহভাগ নেতাকর্মীর বক্তব্য হচ্ছে- কুড়িগ্রাম-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তাসভীর-উল-ইসলামের পক্ষে ভোটারদের আস্থা ও জনসমর্থন রয়েছে। এ কারণে তিনি যেখানেই যাচ্ছেন সেখানেই দল মতের উর্দ্ধে উঠে সাধারণ মানুষের সমর্থন পাচ্ছেন। তার প্রতিটি নির্বাচনী পথসভায় হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে জনসভায় রুপ নিচ্ছে।
বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনের চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য তাসভীর-উল-ইসলাম শুধুমাত্র বিএনপি করার কারণে বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে রাজধানীর বনানীর এফ আর টাওয়ারের ফ্লোরগুলোর মালিক কাশেম ড্রাইসেলস কোম্পানি লিমিডেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাসভীর-উল-ইসলাম ব্যবসায়িক ভাবে হয়রানীর শিকার হন। এছাড়া কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির তৎকালীন সভাপতি হিসেবে তিনি বিগত সময়ে দায়িত্ব পালন করে অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মূলত কুড়িগ্রামে বিএনপির রাজনীতিতে তার অনেক অবদান রয়েছে। ধামশ্রেণি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মফিজল হক (জর্দা) জানায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জননেতা তাসভীর-উল-ইসলামকে মনোনয়ন দেয়ায় নির্বাচনী জনমত জরিপে তিনি এগিয়ে আছেন। সাধারণ ভোটাররা তাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠানোর জন্য একমত। এবারের নির্বাচনে তিনি প্রতিপক্ষ প্রার্থীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে বিজয় ছিনিয়ে আনবেন বলে তিনি মনে করেন। সবমিলিয়ে বলা চলে কুড়িগ্রাম-৩ আসনে জননেতা তাসভীর-উল-ইসলাম একজন যোগ্য প্রার্থী এবং তিনি ভোটের মাঠে জোয়ার তুলেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *