নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের উপজেলায় ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে লাম্পি স্কিন রোগ। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে একের পর এক গরুর মৃত্যু ঘটছে। বিশেষ করে বাছুর ও ছোট গরু বেশি আক্রান্ত হওয়ায় খামারি ও কৃষকদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নেওয়াশী ইউনিয়নে এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচটি গরুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মুছুল্লিপাড়া গ্রামের আমজাদ হোসেন, আশরাফ হোসেন, খলিল মিয়া, শুকুর আলী ও হাছেন আলীর একটি করে গরু মারা গেছে।
অন্যদিকে নারায়ণপুর ইউনিয়নের হাইস্কুলপাড়া গ্রামের ওসমান গণির একটি গরু বর্তমানে আক্রান্ত রয়েছে। একই এলাকার আব্দুল আলীমের একটি গরু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এছাড়া প্রায় এক মাস আগে জয়নাল আবেদীনের একটি বাছুরও মারা যায়।
ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, আক্রান্ত অধিকাংশ গরুই লাম্পি স্কিন রোগে মারা গেছে। পাশাপাশি অনেক গরু খুরা রোগেও আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আক্রান্তদের বেশিরভাগই বাছুর ও ছোট গরু হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে।
এদিকে উপজেলার গোবর্ধনেরকুটি হাজীপাড়া গ্রামের ছোহরাব হোসেনের একটি বাছুর, হাসনাবাদ ইউনিয়নের চতলারপাড় এলাকার নবুর হোসেনের একটি গরু এবং গাবেরতল এলাকার আসাদুলের একটি গরু বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব গরু মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত খামারিরা অভিযোগ করে বলেন, সরকারি ভাবে এখন পর্যন্ত তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা পরামর্শ পাননি। ফলে নিজেদের উদ্যোগেই চিকিৎসা করাতে হচ্ছে।
খামারিদের দাবি, লাম্পি ভাইরাসজনিত এ রোগের কারণে গরুর শরীরে ক্ষত সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক গরুর ক্ষত শুকিয়ে গেলেও আসন্ন কোরবানির বাজারে এসব গরু কিনতে ক্রেতাদের অনাগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এতে লাভের বদলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা ককিল চন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আরিফুর রহমানের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
পরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আরিফুর রহমান বলেন, “উপজেলায় মাত্র দুইজন চিকিৎসক রয়েছেন। জনবল সংকটের কারণে আমরা সব জায়গায় গিয়ে চিকিৎসা বা পরামর্শ দিতে পারছি না। সরকারি ভাবে লাম্পি রোগের ভ্যাকসিন সরবরাহও সীমিত। ফলে সবাইকে ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যারা হাসপাতালে আসছেন, তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠকর্মীরাও সচেতনতা ও পরামর্শ প্রদান করছেন।”
তিনি আরও জানান, লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরুর শরীরে গুটি বা ফোলা দেখা দেয়, শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং গরু খাওয়া বন্ধ করে দেয়। এতে দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে প্রাণীগুলো।
