বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে খানসামায় প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভোজপুরি গানে অশালীন নৃত্য, বইছে সমালোচনার ঝড়

এস.এম.রকি, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২ তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস এবং মুক্তির উৎসব ও সুবর্ণজয়ন্তী মেলা উপলক্ষে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভোজপুরী গানের সাথে অশালীন নৃত্য পরিবেশনের অভিযোগ উঠেছে। সেই নৃত্য ও গানের ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে, শুরু হয়েছে সমালোচনা।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। এর আগে সকালে এই অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সাংসদ, প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধিগণ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল এই হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ছবি ও আয়োজনে খানসামা উপজেলা প্রশাসন লেখা সম্বলিত ব্যানারের মঞ্চে ভোজপুরী ডিজে গানের তালে এক তরুণীকে নাচতে দেখা যায়। নৃত্যের এক ফাঁকে এক যুবক যাত্রাপালার মত তরুণীর গায়ে টাকা উড়াতে দেখা যায়। এসময় দর্শক সারিতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরে ফেসবুক এমন আয়োজনের যৌক্তিকতা ও কর্তৃপক্ষের উদাসীন মনোভাবকে দায়ী করে মন্তব্য করেন।
এর সাথে আযান চলাকালীন সময়েও উচ্চ শব্দে গান আর নৃত্য হওয়ায় অনেকেই ক্ষুব্ধ।

শাহিন রহমান নামে একজন বলেন, বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতার জন্মদিন উদযাপন হচ্ছে ভোজপুরি গান আবার সাথে অশালীন নাচ। বিষয়টি বড়ই আপত্তিকর।

আরিফ ইসলাম বলেন, অনুষ্ঠানে দর্শক সাড়ির সামনের কাতারে মানুষ, স্থান ও এই দিনের সাথে এরকম অস্বাভাবিক নৃত্য মোটেই কাম্য নয়। তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

প্রত্যয় কুন্ড বাপ্পা বলেন, উপজেলা প্রশাসনের এমন আয়োজনকে ধিক্কার জানাই। সেই সাথে জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং উপজেলা প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

তৌহিদ সেলিম মন্তব্য করেন, আয়োজন তো দেখি উপজেলা প্রশাসন করেছে। এত নোংরা রুচির মানুষও আমাদের উপজেলা প্রশাসনে আছে?

এবিষয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোখলেছুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে এমন নোংরামি আয়োজন কাম্য ও গ্রহণযোগ্য নয়। এটা চরম নিন্দনীয় কাজ। যা মেনে নেওয়ার মত নয়। এই আয়োজনের সাথে সম্পৃক্তদের জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানাচ্ছি।

তবে ইউএনও রাশিদা আক্তার এ ঘটনাটি অস্বীকার করে বলেন, এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দিবসটি উদযাপনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.