এস.বি-সুজন,লালমনিরহাট প্রতিনিধি :
তুচ্ছ ঘটানাকে কেন্দ্র করে জুতার মালা গলায় দেওয়ার মামলা সঠিকভাবে তদন্তের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে লালমনিরহাট সদর উপজেলার উত্তর সাপটানা ( কোরবানটারী) এলাকার শ্রী কমলা কান্ত রায়ের স্ত্রী শ্রীমতি মাধবী রানী (৪৫)।

৮ জানুয়ারী (রবিবার) সকাল ১১ টায় শহরের আলোরুপা মোড়স্ত সাপ্তাহিক নতুন বাংলার সংবাদ অফিস কার্যালয়ে উক্ত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে লিখিত বক্তব্যে শ্রীমতি মাধবী রানী বলেন, গত ৮/১১/২০১৭ ইং তারিখে আমার বাড়ীর অদুরে বটতলা দুর্গা মন্দিরের সামনে আনুমানিক সকাল সাড়ে আটটার সময় প্রতিবেশি গিরিশ চন্দ্র রায়ের বাড়ীতে দিন মজুরের কাজ করছিলেন। ইতিপুর্বে গত ৫/১১/২০১৭ ইং তারিখে বানিয়ার দিঘী নামক স্থানে আমাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান বিষয়ে আলোচনার কলহের জেরে আমার স্বামী শ্রী কমলা কান্ত রায়কে গিরিশের বাড়ী থেকে কথা আছে বলে ডেকে নিয়ে তার গলায় জুতার মালা পরায় এবং বেদম মারপিট করে পকেটে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেয় আসামিরা

এদিকে আমার স্বামী কে উদ্ধার করতে এগিয়ে গেলে আমাকেও শ্লীলতাহানি ঘটিয়ে মারধর করে।

এসময় স্থানীয় লোকজন আমাদেরকে উদ্ধার করলে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক স্বপন চন্দ্র রায়ের কাছে চিকিৎসা নেই। পরে এঘটনায় আপোষ মিমাংসায় ব্যার্থ হয়ে গত ১৮/১১/২০১৭ ইং তারিখে মনোরঞ্জন রায়, কানন বালা, সুমন মোহন্ত, সুবা রানী ও আউলা চন্দ্র সহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে লালমনিরহাট সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করি।

পরে থানা পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করে। যাহার জিআর নং- ৭১১/১৭। মামলা দায়েরের পর তৎকালীন পৌর মেয়র আমার স্বামী সহ আমাকে তার সাপটানা বাজারস্ত গদি ঘরে ডেকে নিয়ে গেলে আমরা সেখানে বিবাদীদের দেখতে পাই। এসময় মেয়র (সাবেক) মামলাটি মিমাংসার কথা বললে আমি মিমাংসায় রাজি না হলে তিনি আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি প্রদান করেন এবং সাদা কাগজে আমার স্বাক্ষর নিয়ে আমাদের বাড়ী পাটিয়ে দেন।

মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে থাকা এস আই নিহার রঞ্জন রায়কে বিষয়টি অবগত করলে তিনিও আপোষ করতে বলেন। নতুবা নিরপেক্ষ তদন্ত না করে মামলাটির মিথ্যা মর্মে চার্জশিট দাখিল করবেন বলে আমাদের সাথে অসৌজন্য মুলক আচরণ করেন। সে সময় এ ঘটনায় লালমনিরহাট সদর থানার ওসি (তদন্ত) উদায় কুমার মন্ডল কে বিষয়টি অবগত করলে তিনি এ বিষয়ে কিছু করতে পারবেন না বলে জানান।

পরে মামলাটি নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তনের জন্য গত ৭/১/২০১৮ ইং তারিখে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার বরাবর আবেদন করলে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) লালমনিরহাট ১৫/১/২০১৮ ইং তারিখে সদর থানার অফিসার ইনর্চাজ বরাবর পত্র ইসু করে। ঘটনাটি নিরপেক্ষ তদন্তের সার্থে আমাকে সহ এজাহারে উল্লেখিত সকল স্বাক্ষী কে ২১/১/২০১৮ ইং তারিখে সকাল ১১ টায় তার কার্যালয়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশ প্রদান করলে সদর থানার অফিসার ইনর্চাজ গত ১৬/১/২০১৮ ইং তারিখে এ এস আই রিয়াজুল ইসলাম কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলে এস আই নিহার রঞ্জন রায় গত ১৫/১/২০১৮ ইং তারিখে চিঠির বিষয়টি জানতে পেয়ে তড়িঘড়ি করে চুড়ান্ত প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করে ব্যাক ডেটে গত ১২/২/২০১৮ ইং তারিখে স্বাক্ষর করে আদালতে দাখিল করেন।

কিন্তু বিজ্ঞ আদালত উক্ত চুড়ান্ত প্রতিবেদনটি গত ১২/২/২০১৮ ইং তারিখে প্রাপ্ত হয়েছে এবং একই দিনে চুড়ান্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করেন।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে শ্রীমতি মাধবী রানী আরো বলেন আইন অনুযায়ী কোন রিপোর্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক স্বাক্ষর হওয়ার দিবসের পরবর্তী ২-৩ কার্য দিবসের মধ্যে উহা আদালত প্রাপ্ত হন। অথচ প্রতিবেদনটি তদন্তকারী কর্মকর্তা স্বাক্ষর করার ১মাস ১১ দিন পরে আদালতে দাখিল হয়। এতেই প্রতিয়মান হয় যে থানা কর্তৃপক্ষ স্মারক নং- ৪৭/সি ১৫/১/১৮ ইং তারিখে পত্রের আদেশ হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য তড়িঘড়ি করে চুড়ান্ত প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করে ব্যাক ডেটে দাখিল করায় আজ আমি বিচার বঞ্চিত। আদালত চুড়ান্ত প্রতিবেদনটি পাওয়ার পর মামলাটি নিষ্পত্তির আদেশ দেন। সে সময় আমরা নারাজির আবেদনের সুযোগ পাইনি।

পরবর্তীতে ন্যায় বিচার পেতে মামলাটি পুনরায় তদন্তের আবেদন জানালে আদালত বিষয়টি ওসি (ডিবি) কে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু, দুখের বিষয় ডিবি পুলিশ ও পুর্বের মতো
আসামী গনের পক্ষ নিয়ে আপোষ মিমাংসার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে।

তিনি উক্ত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মামলাটির সুষ্ঠ তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এবিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা (ডিবি) ফেরদৌস বলেন মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদনটি আদালতে দাখিল করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো পড়ুন