হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:
নির্বাচন-পরবর্তী ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাতিয়া উপজেলা এলাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের প্রকল্প বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচন-সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। প্রকল্প বাজার এলাকায় পৌঁছালে তার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন।
এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে তার সমর্থক ও বিরোধী পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয় পক্ষ রাস্তায় অবস্থান নিলে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে এমপি আবদুল হান্নান মাসউদ ঘটনাস্থলের সড়কে অবস্থান নিয়ে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
সংঘর্ষে হাতিয়া থানা পুলিশের পরিদর্শক শহীদুল্লাহ ও উপপরিদর্শক (এসআই) শহীদুল ইসলাম আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এছাড়া বিএনপি ও এনসিপির অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে উভয় দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। আহতদের হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এমপি আবদুল হান্নান মাসউদ অভিযোগ করেন, ক্ষতিগ্রস্তদের দেখে ফেরার পথে স্থানীয় বেলাল নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে তার গাড়িবহরের পেছন থেকে হামলা চালানো হয়। তিনি জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অন্যদিকে চানন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান দাবি করেন, প্রকল্প বাজারে হান্নান মাসউদ উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। তার বক্তব্যের পর তার দলের নেতাকর্মীরা প্রথমে বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর করে। পরে কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় স্থানীয় লোকজন প্রতিরোধের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, উভয় পক্ষের সংঘর্ষে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ চলছে।
এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
