স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা
দেশের সাধারণ মোবাইল ব্যাংকিং গ্রাহকদের টার্গেট করে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে একদল সাইবার অপরাধী চক্র। এবার তারা ‘বিকাশ অফিশিয়াল ভর্তুকি’ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
সম্প্রতি গ্রাহকদের মোবাইল ফোনে একটি প্রতারণামূলক বার্তা পাঠানো হচ্ছে, যেখানে লেখা রয়েছে— “Bkash ঘোষণা: অফিশিয়াল ভর্তুকি চলছে, নিন সর্বোচ্চ ৯৯৯৯ টাকা”। বার্তার সঙ্গে একটি অজ্ঞাত শর্ট লিংক সংযুক্ত করা হয়েছে, যা মূলত প্রতারকদের তৈরি করা ফিশিং ফাঁদ বলে জানিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি সুপরিকল্পিত ‘ফিশিং স্ক্যাম’। এ ধরনের প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ দখল করে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়। বার্তাটির সঙ্গে মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান bkash.com-এর কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই।
প্রতারণার কৌশল
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বার্তাটি কোনো অফিসিয়াল মাস্কিং নাম ব্যবহার না করে একটি সাধারণ ব্যক্তিগত নম্বর থেকে পাঠানো হয়েছে। অথচ কোনো ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সাধারণত তাদের নিজস্ব ভেরিফায়েড নাম ব্যবহার করেই গ্রাহকদের কাছে বার্তা পাঠায়।
প্রতারকরা প্রথমে আকর্ষণীয় অফারের লোভ দেখিয়ে গ্রাহককে লিংকে ক্লিক করতে উৎসাহিত করে। এরপর সেই লিংক ব্যবহারকারীকে একটি ভুয়া ওয়েবসাইটে নিয়ে যায়, যা দেখতে অনেকটা আসল বিকাশের ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মতো। সেখানে মোবাইল নম্বর, পিন (PIN) এবং ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (OTP) দেওয়ার জন্য বলা হয়।
সচেতনতার অভাবে কেউ যদি এসব তথ্য প্রদান করেন, তাহলে মুহূর্তের মধ্যেই তার অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ প্রতারকদের হাতে চলে যেতে পারে। পরবর্তীতে অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ তুলে নেওয়া বা বিভিন্ন অননুমোদিত লেনদেন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
বিকাশের অবস্থান
মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান বিকাশ বিভিন্ন সময়ে গ্রাহকদের সতর্ক করে জানিয়েছে, তারা কখনোই ফোন, এসএমএস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা কোনো লিংকের মাধ্যমে পিন নম্বর কিংবা ওটিপি জানতে চায় না। এছাড়া ভর্তুকি, বোনাস বা বিশেষ অফারের তথ্য কেবল তাদের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মেই প্রকাশ করা হয়।
গ্রাহকদের করণীয়
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের প্রতারণা থেকে নিরাপদ থাকতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন—
অপরিচিত নম্বর থেকে আসা কোনো লিংকে ক্লিক করবেন না।
পিন (PIN), ওটিপি (OTP) কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না।
কোনো আকর্ষণীয় অফার পেলে প্রথমে তার সত্যতা যাচাই করুন।
সন্দেহজনক বার্তা পেলে তা সঙ্গে সঙ্গে মুছে ফেলুন।
প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল হেল্পলাইনে যোগাযোগ করুন।
প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে অভিযোগ জানান।
সচেতনতাই সর্বোত্তম প্রতিরক্ষা
ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার প্রতারণার ধরনও দিন দিন পরিবর্তিত হচ্ছে। সামান্য অসতর্কতা একজন গ্রাহকের কষ্টার্জিত অর্থ হারানোর কারণ হতে পারে। তাই লোভনীয় অফার, ভর্তুকি বা পুরস্কারের প্রলোভন দেখিয়ে পাঠানো যেকোনো বার্তা সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, “যে কোনো অফার বিশ্বাস করার আগে উৎস যাচাই করুন। কারণ সাইবার অপরাধীরা মানুষের লোভ ও অসচেতনতাকেই সবচেয়ে বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে।”
এই প্রতিবেদনটি স্থানীয় বা জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশের উপযোগী করে সম্পাদনা করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *