বিল শীটে স্বাক্ষর নিলেও ৩ মাস ধরে বেতন পায়নি খানসামায় মৌলিক স্বাক্ষরতার শিক্ষক ও সুপারভাইজাররা

এস.এম.রকি,খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
বেতন, বাড়ি ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার নামে স্বাক্ষর নিলেও পাঠদান কার্যক্রম শুরু হওয়ায় ৩ মাসেও বেতন পায়নি দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত কেন্দ্রের অত্র উপজেলার ৩০০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ১৫ জন সুপারভাইজার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আওতায় গত বছরের ৮ ডিসেম্বর উপজেলার ৬ ইউনিয়নে দুই শিফটের ৩০০টি প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম শুরু হয়। এতে ৩০০ জন শিক্ষক ও ৩০০ শিক্ষিকা, ১৫ জন সুপারভাইজার কর্মরত রয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ৩০ জন পুরুষ ও ৩০ জন মহিলা শিক্ষার্থী রয়েছে। ৮ ডিসেম্বর হতে ৮ জানুয়ারী পর্যন্ত প্রথম মাসের বেতনের জন্য গত জানুয়ারী মাসের শেষের দিকে শিক্ষকদের মাসিক ২৪০০ টাকা আর সুপারভাইজারদের ২৫০০ টাকা বেতনের জন্য বিল শীটে রাজস্ব টিকিটের ওপর স্বাক্ষর নিলেও তা গত ৩ মাসেও প্রদান করা হয় নি। এছাড়াও কেন্দ্র ভাড়া, অ্যাপায়ন বিল, বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার জন্যও স্বাক্ষর নিলেও তা প্রতিষ্ঠান চালুর গত ৩ মাসে টাকা প্রদান করা হয় নি। তবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা সিটিএস বাড়ি ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল প্রদান দেওয়ার কথা বললেও মাঠ পর্যায়ে এর কোন সত্যতা মেলেনি। গত ৩ মাসেও বেতন না পাওয়ায় শিক্ষক ও সুপারভাইজাররা কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। ফলে পাঠদান কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক ও সুপারভাইজারের সাথে কথা বললে তাঁরা বলেন, ভাইভার মাধ্যমে এই প্রকল্পে যোগদান করার কথা থাকলেও করোনার প্রভাবে দুই বছর পর পাঠদান শুরু করেছি। বেতন দেয়ার জন্য সিটিএস কর্তৃপক্ষ বেতন ও আনুষঙ্গিক খরচ প্রদানের জন্য বিল শীটে স্বাক্ষর নিলেও টাকা দেওয়ার কোন নাম নেই। যা হতাশার।

সিটিএস এনজিও’র উপজেলা প্রতিনিধি আকতারুল ইসলাম বলেন, বেতন প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। আশা করি সামনে মাসে রমজান শুরু হওয়ার পূর্বেই বেতন দেওয়া শুরু হবে। তবে ইতিমধ্যে বাড়ি ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

উপজেলা মৌলিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহনাজ পারভিন বলেন, শুরুতে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বেতন ও আনুষঙ্গিক খরচ প্রদানের কথা থাকলেও এখন সরাসরি এই প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা সিটিএসের মাধ্যমে প্রদান করা হবে। এ জন্য বিলম্ব হচ্ছে। তবে এই সমস্যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.