ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) উপজেলা সংবাদদাতা : কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাতুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ করা বনরুটিতে সবুজ ফাঙ্গাস (ছত্রাক) পাওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য দুপুরের টিফিন হিসেবে বনরুটি বিতরণের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা রুটির ওপর সবুজ রঙের ফাঙ্গাস দেখতে পান। শিক্ষার্থীদের হাতে রুটি পৌঁছানোর আগেই বিষয়টি ধরা পড়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে এসে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কুলসুম বেগম বলেন, “রুটিতে ফাঙ্গাস দেখতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা বিতরণ বন্ধ করে দিই। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে অবহিত করা হয়েছে।”
ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আখতারুল ইসলাম সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোবাশ্বের হোসেনকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিদ্যালয় পরিদর্শন, রুটির নমুনা পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ শেষে তদন্ত সম্পন্ন করেন। তদন্ত শেষে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা বনরুটিতে সবুজ ফাঙ্গাস থাকার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে।”
এ বিষয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাদ্য সরবরাহকারী সংস্থা ESDO-এর স্থানীয় প্রতিনিধি মনজু আলম বলেন, “রুটির মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি। তারপরও কীভাবে ফাঙ্গাস পড়েছে, সেটি আমাদের কাছেও বিস্ময়ের বিষয়। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা না করে এ বিষয়ে নির্দিষ্টভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।”
এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। তাদের অভিযোগ, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে যদি নিম্নমানের বা নষ্ট খাদ্য সরবরাহ করা হয়, তবে তা কোমলমতি শিশুদের জীবনের সঙ্গে চরম অবহেলার শামিল।
অভিভাবকদের দাবি, রুটি উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও সরবরাহের প্রতিটি ধাপে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি খাদ্য কর্মসূচিতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিই বাড়ায় না, বরং সরকারের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের ওপরও প্রশ্নের জন্ম দেয়। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জেলার অন্যান্য বিদ্যালয়ে সরবরাহকৃত খাদ্যের মানও জরুরি ভিত্তিতে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো পড়ুন