ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
ভূরুঙ্গামারী থেকে রংপুরগামী মেইল বাস সার্ভিস চালু রাখার দাবিতে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক সমঝোতা ও পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার বিকেলে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাকির হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ রানা, ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ, ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন, বাস সার্ভিস চালুর দাবিতে আন্দোলনকারীদের পক্ষে ডাকসুর পরিবহন বিষয়ক সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ, ছাত্রনেতা রোকনুজ্জান, কুড়িগ্রাম জেলা মোটর মালিক সমিতির সম্পাদক কফিল উদ্দিন, উত্তর ধরলা মোটর মালিক সমিতির সম্পাদক স্বপন কুমার সাহা, সড়ক সম্পাদক আলম হোসেন, ভূরুঙ্গামারী প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ারুল হকসহ বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও ছাত্র প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আন্দোলনকারীদের পক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আসিফ আবদুল্লাহ বলেন, গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ভূরুঙ্গামারী-রংপুর বিরতিহীন বাস সার্ভিস চালু থাকলেও বিভিন্ন অজুহাতে ১ জুন থেকে তা বন্ধ করার চেষ্টা চলছে। এতে এলাকার সাধারণ মানুষ, রংপুরে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী এবং চিকিৎসাসেবাপ্রত্যাশী রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়বেন। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানান।
এ সময় কুড়িগ্রাম ও উত্তর ধরলা মোটর মালিক সমিতির নেতারা জানান, তাদের পক্ষ থেকে বাস সার্ভিস চালু রাখতে কোনো আপত্তি নেই। রংপুর মালিক সমিতির লোকসানের বিষয়টি সামনে এনে বাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, “আমাদের সবার মূল লক্ষ্য জনসেবা নিশ্চিত করা। কোনো পক্ষের কর্মকাণ্ডের কারণে যেন জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, আগামী শনিবারের মধ্যে রংপুর, কুড়িগ্রাম ও উত্তর ধরলা বাস মালিক সমিতির প্রতিনিধিরা একত্রে বসে বাস সার্ভিস চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। এ প্রক্রিয়ায় জেলা প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে বলে সভায় জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ভূরুঙ্গামারী-রংপুর মেইল সার্ভিস চালু ছিল। তবে গত দুই দিন ধরে হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে স্থানীয় জনগণের ব্যানারে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। ফলে দূরপাল্লার যাত্রীদের যাতায়াতে অনিশ্চয়তা দেখা দেয় এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জনভোগান্তি নিরসনের লক্ষ্যে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ সমঝোতা সভার আয়োজন করা হয়। সভা শেষে বাস চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *