ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে শারমিন বেগম (২১) নামের এক প্রসূতি তিন সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। মা সহ দুই সন্তান সুস্থ থাকলেও এক সন্তান অসুস্থ থাকায় চিন্তিত হয়ে পড়েছে পরিবারটি। প্রসূতি শারমিন বেগমের বাড়ী ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের জাকলাটারী শিমুলবাড়ী গ্রামে। তিনি ওই এলাকার রাজমিস্ত্রি রশিদুল ইসলামের স্ত্রী।

শনিবার ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধায় গৃহবধুর প্রসব ব্যাথা উঠলে পরিবারের লোকজন পার্শ্ববর্তী লালমনিরহাট জেলা শহরে মনোয়ারা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে নিয়ে আসা হয়। সেখানে গৃহবধুকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ওই দিন রাত আড়াইটার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনী বিভাগের ডাঃ মোছাঃ রোজিনা আকতার অস্ত্রো পাচারের মাধ্যমে এক এক করে তিনটি সন্তান প্রসব হয়। তিন সন্তানের মধ্যে দুই ছেলে ও এক মেয়ে। এই তিন সন্তানের স্বজনরা নাম রেখেছেন আলিফ, লাম ও মীম। এক সঙ্গে তিনটি সন্তানের জন্ম হওয়ার খবর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সেই সাথে এলাকাবাসী ও স্বজনরা গৃহবধু শারমিন বেগমের তিন সন্তানকে এক নজর দেখার জন্য অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

সোমবার দুপুরে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, বরিবার সন্ধায় ছেলে আলিফ অসুস্থ হয়ে মনোয়ার ক্লিনিক থেকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। লাম ও মীম সুস্থ থাকলেও আলিফ হাসপাতালে নিবির পর্যবেক্ষণ থেকে চিতিৎসাধীন রয়েছে। গতকালের চেয়ে বর্তমানে মাসহ তিন সন্তানই মোটামুটি সুস্থ আছে বলে হাসপাতালের চিকিসক জানিয়েছেন।

গৃহবধু শারমিন বেগম জানান, আল্লাহর অশেষ কৃপায় এক সঙ্গে তিনটি সন্তানের জন্ম দিয়ে আমি সুস্থ আছি। আপাতত আমার সন্তানরাও সুস্থ আছেন। এখন আমার একটায় দুঃখ কিভাবে এই তিন সন্তানকে মানুষ করবো। আমার স্বামী সামান্য রাজমিস্ত্রি। ধার-দেনা করে এপর্যন্ত ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি দিনেই ১ থেকে দেড় কেজি দুধ সন্তানদের খাওয়াতে হবে। বড়ই দুচিন্তায় আছি। সবাই আমার এই তিন সন্তানদের জন্য দোয়া করবেন যেন মানুষ করতে পারি।

গৃহবধুর স্বামী রশিদুল ইসলাম জানান, আল্লাহ দিয়েছে। এখানে আমার কোন কষ্ট অথবা দুঃখ নেই। তিন সন্তান হওয়ায় আমরা স্বামী-স্ত্রীসহ পরিবারের সবাই খুশি হয়েছি। তবে কষ্ট একটাই আমি সামান্য একজন রাজমিস্ত্রি। এই তিন সন্তান হওয়ায় ক্লিনিক ও ওষধসহ প্রায় ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিনিয়ত খরচ হচ্ছেই। এসব টাকা মানুষের কাছে ধার-দেনা করেছি। এতো টাকা কোথায় পাবেন আর কিভাবে ধার পরিশোধ করবেন আর সন্তানের মুখে কিভাবে খারার জোটাবেন এ নিয়ে তিনি চরম দুচিন্তায় পড়েছেন।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনী বিভাগের ডাঃ মোছাঃ রোজিনা আকতার জানান, ডাক্তারী জীবনে এটি প্রথম তিন সন্তান সিজারের অভিজ্ঞা। আল্লাহর কৃপায় সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে। তবে শিশুদের ওজন ও বয়স একটু কম। তাই এক শিশুকে রবিবার সন্ধায় লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিন শিশুদের ভাল চিকিৎসা সেবা দেয়াটা খুবই জরুরী। সেই টাকা রাজমিস্ত্রি বাবার নেই, তাই সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান এই চিকিৎসক।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সিব্বির আহমেদ জানান, দ্রুত খোঁজ খবর নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সহায়তা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *