লালমনিরহাট প্রতিনিধি
বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ‘প্রতিবন্ধী প্রজন্ম’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) পোস্ট দেওয়া অধ্যক্ষের গ্রেফতারের দাবীতে রোববার দুপুর ১২ টা থেকে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অনশন কর্মসূচি পালন শুরু করেন ওই কলেজের প্রভাষক এস তাবাসসুম তামান্না। পরে সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে তিনি অনশন ভাঙেন।
জানাগেছে, জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা উত্তর বাংলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ সরকার মানিক গত জুলাই মাসে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন তার নিজের ফেসবুক আইডি তে পোস্ট দেন। পোষ্টে তিনি লেখেন, “যারা আন্দোলন করছে তারা হলো প্রতিবন্ধী প্রজন্ম।” পরে ওই স্টাটাস এর বিরুদ্ধে একই কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক এস তাবাসসুম তামান্না অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ সরকার মানিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন সহ তাকে উত্তর বাংলা কলেজ থেকে বহিষ্কারের দাবি করে অনশনে বসেন তিনি। পরে সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক এইচএম রকিব হায়দার ও পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম এসে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ সরকার মানিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করার আশ্বাস দিয়ে তাকে জুস ও পানি পান করিয়ে অনশন ভঙ্গ করান।
এসময় প্রভাষক তাবাসসুম রায়হান মুসতাযীর তামান্না বলেন, সন্তানতুল্য ছাত্রদের আন্দোলনকে যিনি প্রতিবন্ধী প্রজন্ম বলে দাবি করে পোস্ট করেছেন সেই লম্পট অধ্যক্ষ আব্দুর রউফকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত ও গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত অনশন চলবে। এতে আমার মৃত্যু হলেও হবে। আবু সাঈদরা পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়েছেন। সেই শহীদের আত্মার শান্তির জন্য আওয়ামী দোসরের গ্রেপ্তারের আন্দোলনে আমি জীবন দেব।
অভিযোগ উঠেছে যোগদানের পর থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের ওপর অনৈতিক আচরণ করে নানাভাবে হয়রানি করছেন অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ সরকার। তার শক্তির প্রধান উৎস ছিলেন সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ ও তার ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুজ্জামান আহমেদ।
অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ তার নিজের অফিসকে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে পরিণত করেছিলেন।
আরও অভিযোগ রয়েছে, অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক তাবাসসুম রায়হান মুসতাযীর তামান্নাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ এবং রংপুর সাইবার ট্রাইবুনালে একটি মামলা করেন। এতেও থেমে থাকেননি তিনি। প্রভাষক তামান্নাকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্তের প্রক্রিয়া শুরু করেন। পরবর্তীতে শিক্ষক তামান্না উচ্চ আদালতের দারস্থ হলে তা স্থগিতের আদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকেও তদন্ত করে অনিয়ম দুর্নীতির সত্যতা পেয়ে অধ্যক্ষ আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন আব্দুর রউফ। নির্যাতিত শিক্ষক তামান্নাকে কলেজে প্রবেশেও বাধা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বেতন ভাতাও প্রদান করছেন না।
সেই সঙ্গে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন প্রভাষক তাবাসসুম রায়হান মুসতাযীর তামান্না।
তাই অধ্যক্ষ আব্দুর রউফকে বরখাস্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এ প্রভাষক।
এত কিছুর পরেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হয়নি। উল্টো অধ্যক্ষ আব্দুর রউফের ক্রমাগত হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন প্রভাষক তামান্না ও তার পরিবার। তাই ন্যায়বিচার পেতে রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের গেটে অনশন শুরু করেন তিনি।
উল্লেখ্য যে এর আগে ওই কলেজের অধ্যক্ষর অনিয়ম এর প্রতিবাদ করায় তামান্নার বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইবুনালে মামলা দায়ের করেছেন অভিযুক্ত ওই অধ্যক্ষ। মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।
