কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
শীত এলেই হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপ থেকে বাংলাদেশে ছুটে আসে অসংখ্য পরিযায়ী পাখি। নিরাপদ আশ্রয় ও উষ্ণতার খোঁজে তারা ভরসা রাখে এ দেশের নদী, চর ও জলাভূমির ওপর। কিন্তু সেই আশ্রয়স্থলই যখন হয়ে ওঠে মৃত্যুফাঁদ, তখন প্রকৃতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যেতে হয় মানুষকেই।
কুড়িগ্রামের কচাকাটা–নাগেশ্বরী এলাকার সংকোষ–গংগাধার নদীর বিস্তীর্ণ চরে দীর্ঘদিন ধরে অসাধু পাখি শিকারীরা ফাঁদ পেতে পরিযায়ী পাখি শিকার করে আসছিল। বিষয়টি নজরে আসার পর পরিযায়ী পাখির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেন ভূরুঙ্গামারী সার্কেল এএসপি মুনতাসির মামুন মুন।
এমনই এক অভিযানের সময় উদ্ধার করা হয় একটি বিরল পরিযায়ী হাঁস—ইউরোপীয়ান রেড শেলডাক (European Red Shelduck)। বাংলাদেশে যা রাজেশ্বরী, চখাচখি বা মানিকজোড় নামেও পরিচিত। উদ্ধার শেষে হাঁসটিকে নিরাপদ পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়।
সার্কেল এএসপি মুনতাসির মামুন মুন জানান,
“এই পরিযায়ী পাখিগুলো ইউরোপ থেকে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসে শুধু শীত থেকে বাঁচার আশায়। অথচ এখানে এসে তারা যদি চোরা শিকারীদের হাতে প্রাণ হারায়, তাহলে তা প্রকৃতির সঙ্গে ভয়াবহ প্রতারণা। এটা কোনোভাবেই সমীচীন নয়।”
তিনি আরও জানান, তার দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বন্যপ্রাণী ও পাখি শিকার, পাশাপাশি চোরাকারবারে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও জোরালো পুলিশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পরিবেশবাদীরা মনে করছেন, এ ধরনের মানবিক ও সচেতন উদ্যোগ যদি নিয়মিত চালু থাকে, তবে প্রতিবছর বাংলাদেশের নদী-নালা ও চরাঞ্চল থেকে শিকারীদের হাত থেকে হাজার হাজার পরিযায়ী পাখির জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।
আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি প্রকৃতির প্রতি মমত্ববোধ—এই দুইয়ের সমন্বয়েই গড়ে উঠতে পারে একটি নিরাপদ পরিবেশ। সার্কেল এএসপি মুনতাসির মামুন মুনের এই উদ্যোগ সেই আশারই প্রতিচ্ছবি, যেখানে মানবিক পুলিশিং প্রকৃতির পাশে দাঁড়ায় নিঃশব্দ প্রাণীদের হয়ে। 🕊️🌿
