ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সড়ক পাকা করার কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কে ফাটল দেখা দিয়েছে। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং। স্থানীয়দের অভিযোগ সড়ক পাকাকরণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। এলাকাবাসীর চাপে সড়কের কাজ বন্ধ রয়েছে। এলজিইডি (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর) বলছে সড়ক নির্মানে অনিয়ম হয়নি। তবে কয়েক স্থানে ফাটল দেখা দেয়ায় ইতোমধ্যে ঠিকাদারকে সেগুলো মেরামত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা এলজিইডি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে গত বছর ১৭ কোটি ৭৭ লাখ ৫৫ হাজার ২২৮ টাকা ব্যয়ে ভূরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ড থেকে শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজার পর্যস্ত প্রায় নয় কিলোমিটার সড়ক পাকা করার কাজ শুরু হয়। আরএবি-আরসি-বিসি-এইচটি জেভি নামের কুড়িগ্রামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সড়ক পাকা করার কাজ পায়। বেলাল নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি সড়ক পাকা করার কাজ বাস্তবায়ন করছে।
শহিদ নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, সড়কটি দীর্ঘদিন যাবত চলাচলে অনুপযোগী থাকার পর পাকা করার কাজ শুরু হয়। পাকা করার ৩ দিন পর সড়কে ফাটল দেখা দিয়েছে। পিচ উঠে যাচ্ছে।
পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, সড়ক পাকা করার কাজে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। এভাবে সড়কের কাজ করা হলে অচিরেই সড়কটি পুনরায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। সুষ্ঠু তদন্ত করলে অনিয়মগুলো বেড়িয়ে আসবে।
ঠিকাদার বেলাল হোসেন বলেন, সড়ক পাকা করার কাজে অনিয়ম করার সুযোগ নেই। এলজিইডি অফিস সার্বক্ষনিক কাজ মনিটরিং করে। সড়ক পাকা করার পর তা জমাট বাধার আগেই যানবাহন চলাচল করায় ফাটল ও কার্পেটিং উঠে গেছে। ছোটছোট যেসব সমস্যা দেখা দিয়েছে সেগুলো সমাধানের কাজ চলছে।
এলজিইডির ভূরুঙ্গামারী উপজেলা প্রকৌশলী ইনছাফুল হক সরকার বলেন, সড়ক নির্মানে অনিয়ম হয়নি। কনসালটেন্ট সহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। সড়কের মাটি ও বিটুমিনের কারণে কিছু অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সেগুলো মেরামত করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো পড়ুন