বুলবুল হাসান, পাবনা জেলা প্রতিনিধি :
আধুনিক বিজ্ঞানের আবিষ্কার স্মার্ট মোবাইল আজ মানব জীবনে অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাত্যহিক কাজকর্ম থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা হয় স্মার্ট ফোন। সকল ক্ষেত্রে এর অবাধ বিচরণ লক্ষ্যনীয়। মাঠের কৃষি থেকে শিক্ষা , ব্যবসা-বানিজ্য এমন কি বিনোদনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আধুনিক বিজ্ঞানের এই আশীর্বাদ মোবাইল, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহজলভ্যতার কারণে শিশু- কিশোর রা অল্প বয়সেই অনলাইনের নানা দিকের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে। তবে এসব প্রযুক্তি ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে উদ্বেগের একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শিশু-কিশোরদের সামনে মানহীন অসংগতি পূর্ণ, অশালীন শব্দচয়ন যুক্ত ও কুরুচিপূর্ণ অঙ্গভঙ্গির অনুপযুক্ত কন্টেন্টের অবাধ প্রবেশ। যেটি এখন একজন সচেতন অবিভাবকের কাছে ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

অভিভাবকরা অভিযোগ করছেন, ফেসবুক, ইউটিউব,টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে কোনো ধরণের বাছবিচার ছাড়াই এমন অনেক ভিডিও সামনে চলে আসছে, যা শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে শিশুদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দিয়ে অভিভাবকরা যখন কিছুক্ষণের জন্য নিশ্চিন্ত হন, তখনই অনেক সময় শিশুরা ইউটিউব, গুগল বা ভিডিও প্ল্যাটফর্মে ক্লিক করে পৌঁছে যায় অনুপযুক্ত ভিডিও কন্টেন্টে। যেটা কোনো ভাবেই শিশু-কিশোরদের জন্য কাম্য নয়। 

একজন অভিভাবক বলেন, আমার পাঁচ বছরের ছেলে ইউটিউবে কার্টুন দেখতে গিয়ে হঠাৎ এমন কিছু দৃশ্য দেখে ফেলেছে, যা ওর বয়সের জন্য একেবারেই অনুপযুক্ত । এখন আমি চিন্তায় আছি, ওর মনে এসব কেমন প্রভাব ফেলবে। অভিভাবক হিসেবে আমি চাই রাষ্ট্র এ বিষয়ে কঠোর নজর দারির মাধ্যমে অনুপযুক্ত ভিডিও গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অল্প বয়সে সহিংসতা,যৌনতা কিংবা অপসংস্কৃতির কন্টেন্টে শিশুদের বারবার সংস্পর্শে তাদের চিন্তাভাবনা, আচরণ এমনকি ভবিষ্যৎ ব্যক্তিত্ব গঠনের ওপরও খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। যা সুস্থ মানুষ গঠনে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। সেটি ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য হুমকি স্বরূপ। 

প্রবীণ শিক্ষক আবুল কালাম বলেন, শিশু-কিশোরদের তথ্যপ্রযুক্তি আজ অনেক টা ঘরকুনো বানিয়ে ফেলছে। তাদের সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য জন্য উপযুক্ত পরিবেশের ব্যবস্থা করা দরকার। প্রযুক্তির ভালো-মন্দ দিকটা রাষ্ট্রের কঠোর নজর দারি রাখা উচিত। 

পরিশেষে একটি সুন্দর সুস্থ জাতি গঠনে রাষ্ট্রের এ সকল বিষয়ে নজর দেওয়া খুবই প্রয়োজন। কারণ শিশু কিশোররা আগামী দিনে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে। শিশু কাল থেকেই তাদের
চরিত্র গঠন হয়ে থাকে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে এখনই কঠোর নজর দারি করা উচিত মনে অবিভাবকরা মনে করেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *