নাগেশ্বরী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় ধর্মীয় শিক্ষার মুখোশের আড়ালে সংঘটিত হয়েছে এক মর্মান্তিক ও পাশবিক অপরাধ। এক হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক তার প্রতিবেশী এক বুদ্ধি ও বাকপ্রতিবন্ধী যুবতীকে বাড়িতে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণের শিকার ওই যুবতী বর্তমানে আট মাসের অন্তঃসত্তা। দীর্ঘদিন ভয়ভীতি ও সামাজিক চাপের কারণে ঘটনাটি গোপন থাকলেও অবশেষে আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় ভুক্তভোগীর পরিবার। তবে মামলা দায়েরের পরও অভিযুক্ত ধর্ষক গ্রেফতার না হওয়ায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের আজমাতা নাড়ির ভিটা গ্রামে। মামলা সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের মোঃ মোখলেছ মিয়ার পুত্র মোঃ কামরুল ইসলাম(২৬) পেশায় হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক, তার প্রতিবেশী এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবতীকে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে। বিষয়টি পরিবারের নজরে এলে অভিযুক্তকে শাসন করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সে আরও সুযোগ খুঁজতে থাকে। ভুক্তভোগীর বাবা-মা জীবিকার তাগিদে প্রায় সময় বর্গা ক্ষেতের কাজে বাড়ির বাইরে থাকেন। এই সুযোগে গত ১৫ মার্চ ২০২৫ ইং তারিখে অভিযুক্ত শিক্ষক বাড়িতে যুবতীকে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। ঘটনার পর বিষয়টি প্রকাশ করলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় এবং নানা প্রলোভনের মাধ্যমে ঘটনাটি গোপন রাখতে বাধ্য করা হয়। শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতার কারণে ভুক্তভোগী দীর্ঘদিন মুখ খুলতে পারেনি।

পরবর্তীতে যুবতীর শারীরিক অবস্থার অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করলে পরিবারের সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখন সে কান্নায় ভেঙে পড়ে প্রতিবেশী ওই হাফেজিয়া মাদ্রাসা শিক্ষক কামরুল তাকে ধর্ষণ করেছে বলে জানায়। পরে একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, ভুক্তভোগী প্রায় ৮ মাসের অন্তঃসত্তা।

এ ঘটনায় প্রথমে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। গ্রামে একাধিকবার বৈঠক হলেও অভিযুক্ত ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিচার এড়ানোর চেষ্টা এবং তালবাহানা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগীর পিতা কোন সুবিচার না পেয়ে ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে নাগেশ্বরী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
মামলা নং: ১৬/২০২৫। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মামলা দায়েরের পরও অভিযুক্তকে গ্রেফতার না করা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থাহীনতা সৃষ্টি করছে। তারা অভিযুক্ত হাফেজিয়া মাদ্রাসা শিক্ষক কামরুল ইসলামকে দ্রæত গ্রেফতার, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আহসান হাবীব আকাশ জানান, অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক রয়েছে এবং তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো পড়ুন