Oplus_16908288

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পাইকেরছড়া ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগে সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো ইউনিয়ন। হাট-বাজার, চায়ের দোকান, সামাজিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে এখন নির্বাচনী আলোচনা ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২২ হাজার ৫ শতাধিক ভোটার অধ্যুষিত পাইকেরছড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী। তাদের মধ্যে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক সরকার, অবসরপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্টার ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, পাইকেরছড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাদেকুল ইসলাম রাসেল, ভূরুঙ্গামারী মহিলা কলেজের প্রভাষক লতিফুর রহমান দুলাল, জামায়াতে ইসলামীর নেতা আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ ফারুক আহমেদ, শামীম হাসান এবং সাবেক ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামের নাম ভোটারদের মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে।তবে এদের মধ্যে অনেকে প্রার্থী থেকে সরে যাওয়ার এবং আরও নতুন প্রার্থী হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
যদিও এখন পর্যন্ত দলীয় প্রতীক নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কোনো নির্দেশনা নেই, তবুও সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ রাজনৈতিক সমর্থক ও দলীয় ভোটব্যাংককে নিজেদের পক্ষে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি নির্দলীয় ভোটারদের সমর্থন লাভেও তারা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরছেন।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা দলীয় পরিচয়ের চেয়ে একজন সৎ, শিক্ষিত, জনবান্ধব ও উন্নয়নমুখী নেতৃত্বকে বেছে নিতে আগ্রহী। অনেক ভোটার মনে করছেন, ইউনিয়নের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও কর্মসংস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন—এমন যোগ্য প্রার্থীকেই তারা নির্বাচিত করতে চান।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা এবং ভোটারদের আগ্রহে ইতোমধ্যেই নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে পাইকেরছড়া ইউনিয়নের সর্বত্র। ফলে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *