ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে থানার ওসিকে জড়িয়ে প্রচারিত ‘অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর’ সংবাদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবস্থান জানাতে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল হেলাল মাহমুদ। বৃহস্পতিবার বিকেলে থানার সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় কালে তিনি এ সাংবাদিকদের এ অভিযোগগুলোর ব্যাখ্যা দেন।
ওসি আল হেলাল মাহমুদ বলেন, ভূরুঙ্গামারীর একাধিক চাঞ্চল্যকর মামলার এজাহারনামীয় আসামি আনোয়ার হোসেন আরিফ (৩৪) দীর্ঘদিন ধরে কখনো রাজনৈতিক পরিচয়, আবার কখনো সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, সরকারি কাজে বাধা, মাদক ব্যবসা, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এসব অভিযোগে চারটি মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্রজনতার ওপর হামলা এবং সাম্প্রতিক নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগও রয়েছে।
তিনি দাবি করেন, “আনোয়ারকে গ্রেপ্তার করার পর থেকেই তার সহযোগী একটি চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে থানা পুলিশ ও আমাকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব সংবাদের কোনো ভিত্তি নেই, এতে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।”
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, কারাগারে থাকা আনোয়ার হোসেনের পৃষ্ঠপোষকেরা কয়েকজন ‘বিতর্কিত’ সাংবাদিককে ব্যবহার করে পুলিশি কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছেন। আনোয়ারের বিরুদ্ধে ইতিপুর্বে গছিডাঙ্গা কুড়ারপাড় এলাকার লোকজন মানববন্ধনসহ বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি ও মানববন্ধন করেছে। এসব ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।“কথিত সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন আরিফ ও তার সহযোগীরা একজ প্রতিবন্ধী তরুণকে অপহরণ করে চাঁদা দাবি করলে প্রতিবন্ধী তরুনের পিতার মামলায় তাকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। সে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।”স্থানীয় আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আনোয়ার সংগঠনের উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক। থানা পুলিশের ভাষ্য, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ ছড়ালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। থানার পক্ষ থেকে জনগণকে ‘সঠিক তথ্য অবহিত করার’ জন্যই প্রেস ব্রিফিং করা হয়েছে। মতবিনিময় সভায় ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
