হুমায়ুন কবির,
রাণীশংকৈল(ঠাকুরগাঁও)প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় গত তিন দিনের টানা মাঝরি ও হালকা বৃষ্টি সাথে বাতাসের তান্ডবে শত শত একর আমন ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চলমান ঝড়বৃষ্টিতে উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও মাঝারি নিচু জমিতে পানি জমে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ধান চাষিরা। বৃষ্টির পানিতে জমে থাকা আর্দ্রতা ও বাতাসের প্রভাবে অনেক জায়গায় কাঁচা ও পাকা ধানের গাছ নুইয়ে পড়েছে,সেইসাথে অনেক ধান ঝরে পড়েছে।
এছাড়াও যেসব কৃষক পাকা ধান কেটে বাড়িতে নিয়ে আসার জন্য মাঠে ফেলে রেখেছিল তাদের ধান পানিতে ডুবে গেছে। এতে কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে গভীর উদ্বেগ, হতাশা ও অনিশ্চয়তা। কৃষি অফিস সুত্রমতে – চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ২১৬৫৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছে প্রায় ৫১ হাজার কৃষক। আবাদযোগ্য বিভিন্ন উন্নত জাতের ধানের মধ্যে ব্রি ধান-৭৫, ৮৭,৯৩,১০০,১০৩, বীণা- ১৭, সাদা স্বর্ণা, গুটি স্বর্ণা, সুমন স্বর্ণা ইত্যাদি।কৃষি অফিস সূত্র আরো জানায় এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে সারা উপজেলায় ১৩০ হেক্টর আমন ধান সরাসরি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এ নিয়ে কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের ক্ষতি থেকে উত্তরণের জন্য কাজ করছেন।
জানা গেছে সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ, জমে থাকা বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন, রোগ প্রতিরোধ ও সঠিক পরিচর্যা করলে নুয়ে পড়া ধানগাছও পুনরায় দাঁড়িয়ে ভালো ফলন দিতে পারে। এজন্য প্রয়োজন কৃষকদের সচেতনতা, সরকারি সহায়তা এবং স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ।
উপজেলার লেহেম্বা, বাচোর, ধর্মগড়,
কাশিপুর, হোসেনগাঁও, রাতোর ও নন্দুয়ার ইউনিয়নের প্রায় অনেক গ্রামেই এমন চিত্র দেখা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অসংখ্য কৃষক।
লেহেম্বা ইউনিয়নের কৃষক শামীনুর রশিদ বলেন, আমি ৫ একর পাকা আমন ধান কেটে শুকানোর জন্য জমিতে ফেলে রেখেছিলাম কিন্তু গত তিন দিনের টানা মাঝারি বৃষ্টির পানিতে ভিজে গেছে এবং কিছু ধান জমিতে গজিয়ে গেছে। এখন কি করবো মাথায় কাজ করতেছেনা।
নন্দুয়ার ইউনিয়নের কৃষক সফিকুল ইসলাম বলেন,আমি ১ একর আমন ধান রোপন করেছি সকালে ধান বাড়িতে গিয়ে দেখি সব ধানগাছ শুয়ে গেছে, ফলন আর আশানুরূপ হবেনা, খরচটা উঠলে কোনমতে বাঁচতাম। এছাড়াও বাচোর ইউনিয়নের ইমরান,পৌরসভার জয়নাল আবেদীন, নন্দুয়ার ইউনিয়নের হাজিরুল ইসলাম ধর্মগড় ইউনিয়নের হামিদুর, কাশিপুরের নজরুল ইসলামসহ অনেকে ধানক্ষেতের এমন বিপর্যয় সম্পর্কে বলেন, গাছ যদি পুরোপুরি সোজা অবস্থায় ফিরিয়ে আনা না যায়, ফলন কমে যাওয়ার পাশাপাশি যেমন বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে তেমনি সার, বীজ ও শ্রমের বিনিয়োগ ব্যর্থ হওয়ার শঙ্কায় উপজেলার প্রান্তিক কৃষকদের চোখে-মুখে নেমে এসেছে হতাশার ছাপ। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সহীদুল ইসলাম জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে অনেক কৃষকের ধান গাছের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমরা কৃষি পরিবার এতে চরমভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করছি। প্রকৃতির উপর আমাদের কারও হাত নেই। তবে যেদিন থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে সেদিন থেকেই আমিসহ আমাদের কৃষি অফিসের সকল কর্মকর্তা কৃষকদের পরামর্শ ও ক্ষয়ক্ষতির নিরূপণের কাজ করে যাচ্ছি যেন কৃষকেরা এটি থেকে দ্রুত উত্তরণ হতে পারে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে কৃষি অফিস কর্তৃক তাদের বিভিন্ন তে প্রনোদনা দিয়ে সহায়তা করা হবে।
