লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থানার ওসি এটিএম গোলাম রসুল এর বদলি হওয়ায় জনগণ স্বস্তি প্রকাশ করছে। খুশিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে।
গত ১০মে পুলিশ হেড কোয়াটার প্রশাসন এর এডিশনাল আইজি কামরুল আহসান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনে ওসি গোলাম রসুলকে ১৪ মে ছাড়পত্র গ্রহন করতে বলা হয়েছে।
জানাগেছে, ওসি এটিএম গোলাম রসুল যোগদানের পর হতে বিভিন্ন সময় সাধারণ মানুষকে আটক করে অর্থ আদায়, সাংবাদকর্মীকে চায়ের দাওয়াত দিয়ে সাজানো চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে আটক করে জেল হাজতে প্রেরন, ছাত্রলীগ কর্মীকে থানায় ডেকে শারিরীক নির্যাতন, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রাতে বসা জুয়ার আসর হতে টাকা আদায়, মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোয়ারা নেয়ার অভিযোগ, একজন ঠিকাদারের মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলায় উপজেলার ভোটমারী ইউপি চেয়ারম্যানকে গভীর রাতে বাড়ি হতে আটক করে জেল হাজতে প্রেরন, বিনা টেন্ডারে থানা চত্বরের শত বছরের পুরোনো গাছ কেটে বিক্রি করে অর্থ আত্বসাত, ইন্ট্রাকো সোলার প্লান হতে চাঁদা আদায়ের অভিযোগসহ নানা অভিযোগে তিনি বছর দুয়েক জুড়ে ছিলেন সমালোচিত।
অভিযোগ উঠেছে, থানায় দেয়া গরীব অসহায় লোকদের অভিযোগ নথীভুক্ত না করে উভয় পক্ষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে থানা চত্বরের গোল ঘরে আপোষ মিমাংসা করতেন তিনি। টাকা ছাড়া থানা থেকে সাধারণ জনগণের সেবা পাওয়াই ছিলো দুষ্কর। এছাড়াও আলামত ছাড়া আসামী গ্রেফতার, গ্রেফতারকৃত আসামির নিকট মোটা টাকা নিয়ে নিজের বিশেষ ক্ষমতাবলে আসামি অসুস্থ দেখিয়ে ছেড়ে দেয়া, উদ্বারকৃত মাদক সরকারী খাতায় না দেখিয়ে বিক্রি ও টাকা নিয়ে আসামীর নামে মামলা না করারও বিস্তর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কালীগঞ্জ উপজেলার দুজন মাদক ব্যবসায়ী ইব্রাহিম ও হিমাংসুকে আটক করার পর তাদের মাদক মামলা না দিয়ে নৌকা পোঁড়া মামলায় জেল হাজতে প্রেরন করে বেশ সমালোচনার মুখে পড়ে ওসি এটিএম গোলাম রসুল। বছর জুড়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকা ও সোস্যাল মিডিয়ায় ছিলেন ভাইরাল। বিতর্কিত ওসি গোলাম রসুলের ভয়ে এতোদিন কোন ভুক্তভোগী মূখ না খুললে তার বদলির খবর পেয়ে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেন। আনন্দে একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে বিতর্কিত ওসির অনৈতিক নানা কর্মকান্ডের প্রতিবাদ জানায় সাধারণ জনগণ। গত ১৪মে ওসির বদলির দিন থেকে প্রায় প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি বিতরণ চলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক সাধারণ মানুষজন জানান, কালিগঞ্জ থানার ইতিহাসে এমন বিতর্কিত ওসি ইতিপূর্বে দেখা যায়নি। তিনি যোগদানের পর থেকে এ উপজেলায় জুয়া ও মাদকের প্রবণতা ব্যাপক হারে বেড়ে য়ায়।

উল্লেখ্য, ওসি গোলাম রসুলকে এর আগেও গত ১৩ সেপ্টেম্বর’ ২০২২ বাংলাদেশ পুলিশ হেড কোয়াটার পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট-২ এর এআইজি জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বদলী করা হয়েছিল। ওই বদলির প্রজ্ঞাপনে ১৮ সেপ্টেম্বর’২০২২ এর মধ্যে ছাড়পত্র গ্রহন করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ১৯সেপ্টেম্বর’২০২২ হতে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ হিসাবে গন্য করা হবে। কিন্তু সে আদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক তদবির করে পুনরায় স্ব স্থলে বহাল থাকেন এবং আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন ওসি গোলাম রসুল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো পড়ুন