খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি–সহ তিন দফা দাবিতে চলমান আন্দোলন ও কর্মবিরতির কারণে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। দিনাজপুরের খানসামা উপজেলাজুড়ে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হলেও শিক্ষক সংকটে বাধ্য হয়ে দপ্তরী, স্বেচ্ছাসেবক ও অভিভাবকদের সহায়তায় পরীক্ষা নিতে হচ্ছে।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে সরেজমিনে বালাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা যায় সহকারী শিক্ষকরা পরীক্ষা বর্জন করায় ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বিষয়ের পরীক্ষা পরিচালনা করছেন দপ্তরী, স্বেচ্ছাসেবক ও কয়েকজন অভিভাবক। প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির মোট ৩৫০ শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

একই চিত্র দেখা গেছে উপজেলার ১৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশটিতেই। তবে কর্মবিরতি চললেও কিছু বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরীক্ষায় সহায়তা করছেন বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে সহকারী শিক্ষকরা গত ২৭ নভেম্বর থেকে কর্মবিরতিতে রয়েছেন। এর ফলে ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বার্ষিক পরীক্ষার স্বাভাবিক আয়োজনে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে।

বালাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে থাকায় আমরা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছি। প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী দপ্তরী, স্বেচ্ছাসেবক ও অভিভাবকদের সহযোগিতায় পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই নিয়মিত কার্যক্রমে ফিরে যাব।”

স্থানীয় অভিভাবক সোহাগ ইসলাম বলেন, “শিক্ষকদের দাবি ন্যায়সঙ্গত হতে পারে, কিন্তু বাচ্চাদের পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এভাবে পরীক্ষা নেওয়া ঠিক নয়। আমরা চাই দ্রুত সমাধান হোক।”

খানসামা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির তালুকদার বলেন,
“সহকারী শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে বিকল্প পদ্ধতিতে পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে যাতে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি যতটা সম্ভব কম হয়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো পড়ুন