জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীঃঃ
ভোরের সূর্য ওঠার লগ্নেই, আবারো নিরীহ যাত্রীদের রক্তে রঞ্জিত হলো সিলেটের রশিদপুর নামকস্থানে ঢাকা -সিলেট সড়কের রাজপথ। একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন ৮জন যাত্রী। বেপরোয়া গতিতে ছুটে চলা সিলেটমুখী লন্ডন এক্সপ্রেস ও ঢাকামুখী এনা বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় আরো ৩০ জনের মতো যাত্রী আহত হয়েছেন । এদের মধ্যে আশংকাজনক অবস্থায় আরো ২ থেকে ৩ জন চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানা গেছে। শুক্রবার ভোর ৭টার দিকে এই দুর্ঘটনার সময় হাইওয়ে পুলিশের কোনো দেখা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। গতবছর তাবলীগ জামাতের ঢাকার ইজতেমা শেষে ফেরার পথে একইস্থানে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছিলেন ৬জন।

সিলেট শহরতলীর দক্ষিণ সুরমার রশিদপুরে সিলেটগামী লন্ডন এক্সপ্রেস (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-৩১৭৬) ও ঢাকাগামী এনা পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো ব ১৪-৭৩১১) মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতরা হলেন, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সালমান খান (২৮), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের নুরুল আমিন (৫০), ঢাকা ওয়ারি এলাকার সাগর (১৯), সিলেটের ওসমানীনগরের মঞ্জুর আহমদ মঞ্জু (৩৫), একই উপজেলার জাহাঙ্গির হোসেন (৩০), ডা. ইমরান খান রুমেল (৩৪), সিলেটের আখালিয়া নতুন বাজার এলাকার আবদুর রশিদের ছেলে শাহ কামাল (৪৫) ও দোয়ারাবাজার বাংলাবাজার এলাকার রহিমা বেগম( ৩২)

এদের মধ্যে মঞ্জু এনা পরিবহনের চালক ও জাহাঙ্গির তার সহযোগি। নুরুল আমিন লন্ডন এক্সপ্রেসের সুপারভাইজার আর ডা. ইমরান উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রভাষক।

দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, সিলেটের উপ পরিচালক কোবাদ আলী সরকার। তিনি বলেন, এই দুর্ঘটনার ৮ জন নিহত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত ৭ জনের লাশ পেয়েছি। আরেক শিশুকে আমরা মূমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করেছি।

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জয়নাল আবেদীন জানান, হাসপাতালে ৭টি মরদেহ এসেছে। পোস্টমর্টেমের জন্য লাশগুলো হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো পড়ুন