নিজস্ব প্রতিবেদক | কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদে আবারও ধরা পড়েছে প্রায় ৫৫ কেজি ওজনের একটি বিরল প্রজাতির বাঘাইড় মাছ। অথচ সরকারি বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে এ ধরনের মাছ শিকার ও বিক্রি চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—আইন কি শুধুই কাগজে-কলমে?
রবিবার (২১ জুন) ভোরে কুড়িগ্রামের অনন্তপুর এলাকার জেলে বকুল চন্দ্র ও তাঁর সহযোগীদের জালে ধরা পড়ে বিশাল আকৃতির বাঘাইড় মাছটি। রাতভর মাছ ধরার পর ব্রহ্মপুত্র থেকে মাছটি তোলা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাছটি জেলেদের কাছ থেকে কিনে নেন অনন্তপুর এলাকার স্কুল শিক্ষক মো. সাজেদুল ইসলাম (সাজু)। পরে তিনি প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে মাছটি বিক্রির উদ্যোগ নেন। সে হিসাবে মাছটির সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৮৫ হাজার টাকা। বিরল আকৃতির মাছটি দেখতে তাঁর বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ।কিন্তু সরকারিভাবে বাঘাইড় মাছ শিকার ও ক্রয় বিক্রয় নিষিদ্ধ থাকলেও মাছটি জীবিত উদ্ধারে মৎস্য ও বনবিভাগ কোন আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করে নাই।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর ধরে ব্রহ্মপুত্রে অবাধে বাঘাইড়সহ বিভিন্ন বিরল প্রজাতির মাছ শিকার হচ্ছে। এসব মাছ হাট-বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হলেও মৎস্য বিভাগ ও বন বিভাগের কার্যকর অভিযান বা আইনি ব্যবস্থা খুব একটা দেখা যায় না। এতে অসাধু শিকারিরা আরও উৎসাহিত হচ্ছে।
প্রাণীবিদ ও পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, বাঘাইড় একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশীয় বৃহৎ প্রজাতির মাছ। নির্বিচারে শিকার অব্যাহত থাকলে অচিরেই এ প্রজাতি নদী থেকে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা অবিলম্বে ব্রহ্মপুত্রসহ দেশের নদ-নদীতে বিশেষ নজরদারি জোরদার, অবৈধ শিকার বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অভিজ্ঞ মহলের প্রশ্ন এখন একটাই—যদি আইন প্রয়োগ না-ই হয়, তবে বিরল প্রজাতির মাছ সংরক্ষণের সরকারি ঘোষণা কি শুধুই লোক দেখানো? প্রশাসনের নীরবতার দায় কে নেবে?
