লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই মোস্তাকিম ইসলাম ও কনস্টেবল ফারুকের বিরুদ্ধে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীকে মারধর ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগের এক মাস পার হলেও তদন্তে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান লালমনিরহাট ডিবি পুলিশের ওসি সাদ আহমেদ জানিয়েছেন, “তদন্ত কাজ প্রায় শেষ, খুব শিগগিরই প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।”

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ অক্টোবর রাতে উপজেলার ময়নারচওড়া বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলামকে বিনা কারণে মারধর করেন গোড়ল তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই মোস্তাকিম ইসলাম। এ সময় মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। পরদিন ভুক্তভোগী সাইদুল ইসলাম আদিতমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন এসআই মোস্তাকিম ইসলাম ও কনস্টেবল ফারুকের বিরুদ্ধে।

অভিযোগের পর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন অভিযুক্ত ইনচার্জ। গত ২৩ অক্টোবর গভীর রাতে একদল পুলিশ নিয়ে সাইদুল ইসলামের বাড়িতে যান তিনি। দরজা না খোলায় পুলিশ গেট টপকে ঘরে প্রবেশের চেষ্টা করে এবং দরজা ভেঙে ফেলার হুমকি দেয়। পরে দরজা খুললে পুলিশ জানায়, তার নামে ওয়ারেন্ট আছে এবং তাকে গ্রেফতার করতে হবে। এসময় আতঙ্কে সাইদুল ইসলাম অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে পুলিশ সরে যায়।

পরদিন সাইদুল আদালত ও থানা ঘুরে জানতে পারেন, তার নামে কোনো মামলা নেই। এতে আতঙ্কিত হয়ে তিনি ডিআইজি রংপুর রেঞ্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন জীবনের নিরাপত্তা ও বিচার দাবিতে।

সাইদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “আমি এখন ভয়ে বাড়িতে থাকতে পারি না। অভিযোগ করার পর থেকে বারবার হুমকি আসছে। পুলিশ যেভাবে আচরণ করেছে, তাতে আমি আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।”

এদিকে, ঘটনার তদন্তে গঠিত কমিটির কাজ এগোলেও এখনো কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। তবে কনস্টেবল ফারুককে কালীগঞ্জ থানায় বদলি করা হয়েছে।

অভিযুক্ত এসআই মোস্তাকিম ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি যোগদানের পর থেকে এলাকায় মাদক ব্যবসা অনেক কমে গেছে। মাদক ব্যবসায়ীরাই আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।”

লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, “গোড়ল ও চন্দ্রপুর ইউনিয়নে মাদক ও চোরাচালান প্রবণতা বেশি। পুলিশ সেখানে কঠোর অবস্থানে আছে। তবুও কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে তা যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। কেউ দোষী প্রমাণিত হলে ছাড় দেওয়া হবে না।”

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে গোড়ল ইউনিয়নে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র স্থাপনের পর থেকে প্রায় প্রতিটি ইনচার্জের বিরুদ্ধেই দুর্নীতি, ঘুষ, নির্যাতন ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ওই তদন্ত কেন্দ্রের কিছু সদস্য সীমান্তপারের মাদক ও গরু চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজশে মাসোয়ারা আদায় করে আসছে।

স্থানীয়দের দাবি গোড়ল তদন্ত কেন্দ্রের সুষ্ঠু তদন্ত ও নিয়মিত মনিটরিং ছাড়া ওই এলাকায় মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো পড়ুন